বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর পদযাত্রা কর্মসূচি করতে শিক্ষকেরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। সেদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় শহীদ মিনার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ শাহবাগ মোড়ে তাঁদের বাধা দেয়৷ এ সময় আন্দোলনকারীরা শাহবাগে জাদুঘরের সামনে বসে পড়েন৷ তখন থেকে এখনো তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দেখা না পাওয়া পর্যন্ত শাহবাগেই অবস্থান করবেন বলে জানান বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ক আরিফুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবস্থান কর্মসূচিতে গত চার দিনে আমিসহ মোট ২৭ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করায় তাঁদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর কেউ কেউ কর্মসূচিতে ফিরে এসেছেন, কেউ কেউ এখনো হাসপাতালে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছ থেকে সোমবার দুপুরে শাহবাগ থানা-পুলিশ তিন সদস্যের একটি তালিকা নিলেও পরে আর কিছু জানানো হয়নি। দাবির বিষয়ে কোনো ধরনের আশ্বাসও আমরা পাইনি৷ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চাই৷ তা না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

আরিফুর রহমান জানান, সারা দেশে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ২ হাজার ৬৯৭টি বিদ্যালয় আছে। স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রায় ৬০-৭০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী জড়িত, প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী এসব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়া হয়৷ ২০০৯ সালে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি৷

শিক্ষকদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়োগের তারিখ থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া; সব বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা; প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করা; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপযোগী স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন; চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ শতভাগ নিশ্চিত করা; প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক থেরাপি সরঞ্জাম সরবরাহসহ থেরাপি সেন্টার চালু এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানসহ আত্মনির্ভরশীল জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেওয়া৷

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন