বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসকে বহিরাগত ব্যক্তি ও গাড়িমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকটি গাড়ির মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযানের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ব্যক্তি ও যানবাহনের আনাগোনা কিছুটা কমেছে৷ ক্যাম্পাসের সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের একটি অংশও নিয়মিত অভিযান করছে৷ ক্যাম্পাসের টিএসসি এলাকার পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফটকের ভাসমান দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হয়েছে৷

অভিযানের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, ক্যাম্পাস ছোট হয়ে গেছে৷ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, নিজেরা পথে নেমে যাচ্ছে৷ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা যদি নিরাপদে হাঁটতে-চলতে না পারে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকে, তাহলে জাতির বড় ক্ষতি৷ এই জায়গাটায় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি৷ নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের জন্যই আমরা কাজ করছি৷’

প্রক্টরের এ অনুরোধের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে—এটি আমরা অনুধাবন করি৷ করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যবিধি ইত্যাদি বিবেচনায় এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে৷ একইসঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেরও প্রাণকেন্দ্র৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকারই ধারণা৷ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং একইসঙ্গে একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখা- দুটো বিষয়কে সমন্বয় করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে আসতে কিছুটা নিরুৎসাহিত করা হলে বিষয়টি খারাপ হবে না বলে আমি মনে করি৷ পরিবেশ পরিষদের সর্বশেষ সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ছাত্রসংগঠনের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে আবাসিক হলগুলোতে চলা গণরুম-গেস্টরুম ও বহিরাগত-অছাত্রদের অবস্থান বন্ধ করা হবে৷ কিন্তু সেটি করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন৷ ছাত্রলীগের প্রশ্রয়ে যেসব বহিরাগত হলগুলোতে ছিলেন, তাঁরা এখনো হলেই আছেন৷ ফলে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ সফল হবে কি না, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান৷’

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ভিড় কমাতে ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ক্যাম্পাসে পার্কিং ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস একটি মুক্ত ক্যাম্পাস৷ এখানে শিক্ষার্থীরা রাত পর্যন্ত থাকবেন, দিনে আড্ডা মারবেন-এটিই স্বাভাবিক৷ শিক্ষার্থীদের পরিচিত অনেক মানুষ ক্যাম্পাসে আসেন৷ বাইরের লোকজন এলে তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চিন্তা-ভাবনার আদান-প্রদান হয়৷’ ক্যাম্পাসের দোকানপাট উচ্ছেদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি৷

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন