দুপুরে মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক ভবনের সামনে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিক্রেতারা কাঠের চৌকিতে পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, বাচ্চাদের জামাসহ নানা ধরনের জিনিসের পসরা নিয়ে বসেছেন। বিক্রেতাদের হাঁকডাক ও ক্রেতা-বিক্রেতার দরদামে মুখর ছিল ওই এলাকা।

সেখানেই একটি অস্থায়ী কাঠের চৌকিতে বড়দের পাঞ্জাবি বিক্রি করছিলেন মো. ওহাব আলী। বিক্রি ভালো হচ্ছে জানিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুরের মধ্যে সাড়ে ১৬ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি পাঞ্জাবি ৫৫০ টাকা হিসাবে প্রায় ৩০টি বিক্রি করেছি।’

default-image

রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা নীলা আক্তার। কেনাকাটা করছিলেন ওই জায়গাতেই। সঙ্গে তখন ছেলে সাজ্জাদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর গ্রামের বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না। তাই আজকে কেনাকাটায় বের হয়েছি। মতিঝিল থেকে ছেলের জন্য দুটি করে শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি নিয়েছি।’ অন্য কেনাকাটা খিলগাঁও এলাকার স্থানীয় মার্কেট থেকে হয়েছে বলে জানান তিনি।

গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটের সামনের সড়ক ও বিপরীত পাশের সড়কেও দেখা মেলে একই দৃশ্য। সড়কে গাড়ির চাপ কম থাকায় অস্থায়ী দোকানগুলো বসানো হয়েছে রাস্তার অনেকটা জুড়ে। সেখানে কেনাকাটা করতে আসা বেশির ভাগ ক্রেতা নিম্ন আয়ের লোকজন। এঁদের কেউ কেউ ঢাকাতেই ঈদ পালন করবেন, তাই আজ কেনাকাটা করছেন। কেউ কেউ আবার গ্রামে যাচ্ছেন। তাই গন্তব্যে রওনা দেওয়ার আগে তাঁরা টুকিটাকি জিনিস কিনে নিচ্ছেন।

কাঁধে ও হাতে ব্যাগ নিয়ে কেনাকাটা করছিলেন বাশার উদ্দিন। বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। মাওয়া দিয়ে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হয়ে বাড়ি যাবেন বলে জানালেন। কী কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছেলের জন্য একটা বেল্ট কিনলাম। মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য কানের দুল ও চুড়ি কিনেছি।’ এই টুকিটাকি জিনিস এই জায়গাতেই পাওয়া যায় বলে আগে কেনেননি বলেও তিনি জানান।

default-image

রাজধানীর ফার্মগেট ও মিরপুর এলাকার ফুটপাত ও খোলা জায়গায় গিয়ে একই দৃশ্য চোখে পড়ে। সেখানেও অনেক ফুটপাত ও খোলা জায়গার অস্থায়ী দোকান থেকে কেনাকাটা করছেন। মিরপুর-১ নম্বর শাহ-আলী মার্কেটের সামনের খোলা জায়গায় ও ফুটপাতে এবং মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার রাস্তায় প্রচুর অস্থায়ী দোকান বসেছে।

মিরপুর-১ নম্বর এলাকার শাহ আলী মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের দোকানি সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে, ফুটপাতে ঈদের এক-দুই দিন আগেই সবচেয়ে বেশি বেচাবিক্রি হয়। তখন লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। শেষ সময়ে বিক্রেতারাও সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করে দেন।

ক্রেতাদের উপস্থিতি ভালো জানিয়ে অনেক ব্যবসায়ী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর বিরতির পর এ বছর পুরোদমে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়া বেচাবিক্রি হচ্ছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন