default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন কথিত এক দম্পতি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান হাউজিং সোসাইটিতে অভিযান চালিয়ে গতকাল সোমবার তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন প্রবাল তালুকদার (৩৮) ও জেনিফা তালুকদার (২৯)। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করে সিআইডি।

বিজ্ঞাপন

সিআইডি সূত্র জানায়, জেনিফা ও প্রবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপ খুলে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিতেন। এসব বিজ্ঞাপন দেখে ক্রেতারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা ক্রেতাদের কয়েকটি মুঠোফোন নম্বরে বিকাশ করে টাকা পাঠাতে বলেন। টাকা পাওয়ার পর তাঁরা ক্রেতাদের মুঠোফোন নম্বর ব্লক করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

সিআইডি জানায়, প্রতারণার শিকার কয়েকজন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে (সিপিসি) গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে সিপিসির সদস্যরা অবস্থান শনাক্ত করে প্রতারক দম্পতি জেনিফা ও প্রবালকে আটক করে। পুলিশ বলছে, দুজনই মাদকসেবী। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেও এ বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার কথিত এই দম্পতির প্রতারণার শিকার নাদিয়া ইসলাম নামে এক নারী তাঁদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলায় নাদিয়া ইসলাম বলেন, অল এসেনশিয়াল বাই জেরিন নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে সুলভ মূল্যে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। গত বছরের ১০ মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাঁদের দেওয়া দুটি মুঠোফোন নম্বরে ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা বিকাশ করেন নাদিয়া। প্রবাল নিজে তাঁর বাসায় এসে টাকা নিয়ে যান। পণ্য পৌঁছে দেওয়ার তারিখ পার হলেও তাঁর কাছে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয়নি। পরে প্রতারকেরা তাঁর নম্বরগুলো ব্লক করে দেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিআইডির সিপিসির বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর অধিকাংশ মানুষ বাসায় বসে অনলাইন কেনাকাটায় আগ্রহী হন। এ সুযোগে প্রতারক জেনিফা ও তাঁর স্বামী পরিচয়দানকারী প্রবাল ফেসবুকে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেন। তাঁরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রসাধনসামগ্রী না দিয়ে মুঠোফোন নম্বরগুলো ব্লক করে দেন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত কথিত এই দম্পতির প্রতারণার শিকার অন্তত সাতজন সিআইডির সিপিসিতে এসে অভিযোগ করেন। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারকেরা অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন