default-image

‘এদিকে আগে যাব, নাকি ওদিকে?’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সঙ্গিনীর কাছে সিদ্ধান্ত চাইলেন এক তরুণ। এরপর দুজনে মিলেই ঠিক করলেন, বইমেলার বাংলা একাডেমি অংশটা ঘুরে তাঁরা প্রবেশ করবেন মূল মেলায়।

গতকাল সোমবার বিকেলটা ছিল বইমেলার একটা গোছানো বিকেল। অনেক বেশি মানুষ ছিল না এ দিন, কমও ছিল না। বাড়ির সামনের থাকা উঠানে হাঁটার মতো করে উদ্যানজুড়ে ঘুরে বেরিয়েছেন সবাই, কিনেছেনও টুকটাক। পরিচ্ছন্ন একটা বিকেল কাটাতে মেলায় এসেছিলেন কিবরিয়া ও সায়েরা। সোজাসাপ্টাই বললেন সায়েরা, ‘বই আজ কেনা হবে না। আজ কেবল ঘুরব। বই কিনতে আসব মা–বাবাকে সঙ্গে নিয়ে।’ এ রকম অনেকেই এসেছিলেন, সঙ্গে বন্ধু নয়তো পরিবারের মানুষেরা। মনের সুখে ছবি তুলেছেন, আড্ডা দিয়েছেন সবাই।

প্রতিবারের মতো এ বছরও মেলার স্টলগুলো সাজানো হয়েছে সর্বোচ্চ নান্দনিকতায়। রঙিন স্টল, ভেতরে সাজিয়ে রাখা বইগুলোর প্রচ্ছদে নানা রঙের ছটা। মেলাজুড়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষের নানা রঙের পোশাক দেখে মনে হচ্ছে, বইমেলাটা যেন একটা ফুলের বাগান। এমনকি মেয়েদের মাথার টায়রাগুলো যেন হয়ে উঠেছে নারীদের বইমেলার ড্রেস কোডের অংশ।

বয়স্ক একজন মানুষকে ঘিরে মেলার এক কোণে একটা ছোট্ট জটলা তৈরি হয়েছিল। কাছাকাছি গিয়ে দেখা যায়, তিনি ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকী। মেলায় ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করে সম্প্রতি ফেসবুকে একরকম ভাইরাল হয়েছেন তিনি। তাঁরই সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন একজন নারী সাংবাদিক। বেশ কিছু বই বগলদাবা করে ঘুরতে দেখা যায় গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে। কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘বইমেলার এলে সব সময়ই ভালো লাগে।’

শিশুদের বইয়ের ছবি আঁকেন শিল্পী শাহিনুর আলম। স্টলগুলোতে কেউ তাঁর আঁকা বই নেড়েচেড়ে দেখলে তিনি আনন্দ পান। কিনে নিয়ে গেলে আরও। সরল হাসিমাখা মুখে সেই কথাটাই জানালেন তিনি। হঠাৎ করেই তখন মাইকে ঘোষণা আসে, প্রচারকেন্দ্রে ১৭৯টি বইয়ের তথ্য জমা পড়েছে। একটা একটা করে বই ও লেখকদের নাম বলতে শুরু করেন ঘোষক। বেশির ভাগ লেখকের নামই অচেনা মনে হয়। শুনতে আরও অদ্ভুত লাগে যখন তিনি বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদটি করেছেন লেখক নিজেই।

মেলায় নতুন বই এখনো আসছে। কোনো কোনো প্রকাশনীর বইয়ের নতুন তালিকাটিও এখনো এসে পৌঁছায়নি। অন্যপ্রকাশের স্টলে গিয়ে দেখা যায় হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিকের বই খুঁজছেন এক তরুণী। বিক্রয়কর্মী সেই তথ্যের পাশাপাশি এ–ও বলে দিলেন, শুভ্রকে নিয়ে সব কটি বই–ই ভালো লাগবে তাঁর। প্রথমা প্রকাশনের একজন বিক্রয়কর্মী জানিয়েছেন, আনিসুল হকের নতুন উপন্যাস এখানে থেমো না চলছে বেশ। লেখক ও সাংবাদিক শুচি সৈয়দকে পাওয়া যায় পুঁথি নিলয়ের স্টলের সামনে। সুলভে রবীন্দ্রসমগ্র পেয়ে শিশুর মতো আনন্দিত তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে পাওয়া যায় মোড়ক উন্মোচনের মঞ্চে।

গতকাল মেলায় প্রথমা প্রকাশন এনেছে আসজাদুল কিবরিয়ার রূপান্তরিত স্যার আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দীর লেখা মহানবীর (সা.) বাণী, নাফিস তিহামের গণিত অলিম্পিয়াড: ১০১ সমস্যা ও সমাধান। আগামী প্রকাশনী এনেছে আল মাসুমের ছড়ার বই আপত্তি সত্ত্বেও। লাবণী প্রকাশনী এনেছে শাবান মাহমুদের বঙ্গবন্ধু’র সারাজীবন। এছাড়া এবারের মেলায় পাঠকসমাবেশ প্রকাশ করছে আনোয়ার সৈয়দ হকের বৃষ্টির ভেতর রবীন্দ্রনাথ

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন