বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শেষ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ মানুষ প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্মের ডিজিটাল উপস্থাপন দেখে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

গ্যালারিতে প্রবেশ করলেই দেখা মেলে বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীর পাশাপাশি দুটি বড় ছবির। এর পাশেই এই দুই মহান নেতাকে নিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, মনীষী ও বিশেষ ব্যক্তিদের মূল্যায়নসংবলিত মন্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক পর্দায় ভেসে ওঠে।
প্রদর্শনীর ডিজিটাল জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশের দোসরদের চালানো গণহত্যা তুলে ধরা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুর রাহিম মাহমুদ বলে, ‘ডিজিটাল মিউজিয়ামে ছবিগুলো অধিক বাস্তব! সেগুলো একটু অস্পষ্ট করলে ভালো হতো। তবে এখানে এসে বঙ্গবন্ধু ও গান্ধী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।’

‘ইন্টারেক্টিভ’ দেয়ালে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী যেসব ঐতিহাসিক বক্তব্য দিয়েছেন, তা যেমন দেখা যায়, তেমনি শোনাও যায়। দর্শনার্থীরা নিজেরাই পর্দায় স্পর্শ করে সেগুলো শুনতে পান।
৩৬০ ডিগ্রি গ্যালারিতে বঙ্গবন্ধুর পুরো জীবনী থ্রিডিতে দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী যেসব গান শুনতেন, সেসবও রেডিওতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা রেডিও চালিয়ে সেসব গানও শুনতে পারছেন।

default-image

হিস্টোরিক সিগনেচারে যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীর স্বাক্ষর নেওয়া যায়। কোনো কোনো দর্শনার্থী চাইলে এই দুই নেতার স্বাক্ষর নিয়েও যেতে পারছেন।
আরেক কর্নারে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ও কস্তুরবা গান্ধীর ছবিও পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছে।

হলোগ্রাম কর্নারে বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীকে প্রজেক্টরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর টেসটিমনি বুথে গিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। অনুভূতির কথাগুলো ভিডিওসহ সরাসরি চলে যায় দিল্লিতে। নিজের অনুভূতি সেখানে প্রকাশ করে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা বিনা।

কী অনুভূতি প্রকাশ করল জানতে চাইলে ফাতেমা বিনা বলে, ‘বঙ্গবন্ধু ও গান্ধী কী করে নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, তা আজকে জানতে পারলাম। অনেকটা অনুপ্রাণিত হয়েছি। সে কথাই বলেছি।’

সুমাইয়া আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভিডিওতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ টাচ স্কিনে প্লে করেছিলাম, সেটা খুব ভালো লেগেছে।’
শিক্ষার্থী মায়িশা তাসনিম বলেন, ‘গান্ধীজির লবণ বিদ্রোহের কথা আগে থেকেই জানতাম। স্ক্রিনে দেখে খুব ভালো লাগল।’

বছিলার ফিরোজা বাশার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মীর চমন সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩১ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ প্রদর্শনীতে এসেছি। এখানে ডিজিটালি বঙ্গবন্ধু ও গান্ধী সম্পর্কে তুলে ধরা তথ্যগুলোর উপস্থাপনা অসাধারণ। শিক্ষার্থীরা পড়ার সঙ্গে স্বচক্ষে দেখছে, যা তাদের বেশি মনে থাকবে।

default-image

আধুনিক প্রযুক্তিও শিশুদের মাথায় ঢুকল। প্রদর্শনী বলতে আমরা আগে স্থিরচিত্র বুঝতাম, এখানে এসে সেই ধারণা বদলে গেল।’

শিল্পকলা একাডেমির এশিয়ান বিয়েনাল সেলের সহকারী সংগঠন ও প্রদর্শনীর শিল্পকলা পক্ষের সমন্বয়ক এ বি এম তৈমুর হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, প্রদর্শনী সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। প্রতিদিন এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ দেখতে এসেছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে দুই নেতাকে জানতে পেরে দর্শনার্থীরা ঋদ্ধ হয়েছেন।

মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সহযোগিতায় এর আয়োজন করেছে দিল্লি গান্ধী ডিজিটাল মিউজিয়াম।

ঢাকার পর এ প্রদর্শনী চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট হয়ে ভারতের কলকাতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন