default-image

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলাকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের সব ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বাসশ্রমিকেরা মারধর ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করার জের ধরে পরিবহনশ্রমিকেরা এ হামলা চালান। এর প্রতিবাদে বুধবার প্রায় ১০ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়বাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

এক বিবৃতিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ‘কথিত শ্রমিক নামের সন্ত্রাসীদের’ বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ পরিবার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে ছাত্রলীগ পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীকে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজুলর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, এই হামলা বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠে সন্ত্রাসী, যারা স্বৈরাচার সরকারকে টিকে থাকতে সহায়তা করে, তারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলব। আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যেখানে প্রশাসনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, সেখানে প্রশাসনের সামনেই তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হয়। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানাই।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এক বিবৃতিতে বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাটি স্পষ্টভাবে মাফিয়া রাষ্ট্রের আচরণ। দ্রুত এই ঘটনার বিচার না হলে শিক্ষার্থীবান্ধব সব ছাত্রসংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে আগামীকাল থেকেই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছি আমরা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইনি সহায়তায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন