default-image

ঢাকার আদাবরের শেখেরটেক এলাকার কয়েকটি সড়কের বাসিন্দারা প্রায় এক মাস ধরে পানির সংকটে ভুগছেন। পিসি কালচার হাউজিংয়ের ৩, ৫, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর সড়কের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাঁরা দুই থেকে তিন দিন পরপর পানি পাচ্ছেন।

পানি না থাকার কারণ হিসেবে ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, জটিলতার কারণে সেখানকার একটি পাম্পে মাটি খনন করে পুনরায় পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। খনন করতে গিয়ে ইতিমধ্যে একবার মাটি ধসে গেছে। ফলে পুনরায় খনন করতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে।

কথা ছিল যত দিন সংকট চলবে, তত দিন অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ওয়াসা গাড়িতে করে ভুক্তভোগী বাসাগুলোতে পানির ট্যাংক ভরে দিয়ে যাবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। কেউ বলছেন, সিরিয়াল নেওয়ার জন্য ওয়াসার কেউ ফোন ধরেন না, কেউ বলছেন সিরিয়াল পেলেও পানি পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে। আবার কেউ বলছেন, বকশিশ না দিলে গাড়ির চালকেরা পানি দিচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী বলছেন, ওয়াসার গাড়ি বাড়ি বাড়ি এসে পানি নেওয়ার জন্য সিরিয়াল দিতে যে টেলিফোন লাইন রয়েছে, সেখানে ফোন করলেও কেউ ধরছেন না। ফলে সিরিয়াল পেতে বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে লালমাটিয়ায় জোন ৩–এর অফিসে। এমনকি সিরিয়াল পাওয়ার পর গাড়ির পানি পেতে ২–৩ দিন লেগে যাচ্ছে।

৭ নম্বর রোডের একটি বাড়ির মালিক মাহমুদা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানির সিরিয়াল নিতে আমাদের লোক গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে সকাল ছয়টা থেকে। সিরিয়াল পেলেও আমাদের তাঁরা পানি দিচ্ছেন ২–৩ দিন পর।’ ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘খাওয়ার পানি না হয় কিনে খেলাম। কিন্তু বাথরুম, টয়লেট এগুলো চলবে কীভাবে? গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে আসছে, এখনো (শুক্রবার) পানি আসেনি। গতকাল রাতে আবার ফোন দিলে তারা বলল পানি দেবে। কিন্তু এখনো কিছুই পেলাম না।’

মাহমুদা আরও জানান, গত এক মাসে মাত্র পাঁচবার ওয়াসার গাড়ি তাঁর বাসার পানির ট্যাংক ভরে দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘পানি দেওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ১০টা ফ্ল্যাটের ভাড়াটেরা মুখিয়ে আছে পানির জন্য। গতকাল ও আজকে কোনো পানিই পাইনি।’

ওই এলাকার আরেকজন বাড়িওয়ালা সৈয়দ সাইফুর রহমান বলেন, ওয়াসা যদি সমন্বয় করে আলাদা আলাদা সড়কে আলাদা আলাদা সময়ে পানি দিত, তাহলে সমস্যার সমাধান হতো। তিনি বলেন, ‘ওয়াসা তা করছে না তাদের কর্মচারীদের ব্যবসার কথা চিন্তা করে। আমাদের তদবির করতে হচ্ছে একটা পানির গাড়ি আসার জন্য। ড্রাইভার, টেলিফোন অপারেটরদের পয়সা না দিলে তারা পানি পৌঁছে দিচ্ছে না।’

সাইফুর আরও বলেন, ‘তারা ঘুষ চাচ্ছে বিষয়টা এমন না, কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি তাদের (ঘুষ) না দিলে পানি দিচ্ছে না। প্রতি গাড়িতে ড্রাইভারদের প্রতিদিন আমার ২০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ি পানির জন্য আরও ৫০০ টাকা। আবার সকালে সিরিয়াল দিতে যাওয়া-আসায় প্রতিদিন লাগছে ১০০ টাকা।’ তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে কয়েকবার তিনি সিরিয়াল না মেনেই পানি নিয়েছেন। এ জন্য প্রতিবার ১ হাজার টাকা দিলে ৭ হাজার লিটার পানি দিয়ে ট্যাংক পরিপূর্ণ করে দিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই তিনি মাসখানেক ধরে প্রতিদিন পানির ব্যবস্থা করেছেন।

সাইফুর অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘এটা তো কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। আমার পাশের বাসাগুলো দুই দিন, তিন দিন পরপর পানি পাচ্ছে। এখানকার যাঁরা একটু প্রভাবশালী আছেন, তাঁদের পানি দেওয়া হচ্ছে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।’

এ বিষয়ে ওয়াসার জোন-৩–এর দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে চাননি। তবে সেখানকার ওয়াসার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের গাড়ির সংকট ও পানি পোঁছানোর সক্ষমতার অভাবের কারণে সবাইকে প্রতিদিন পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

ওয়াসার ওই কর্মকর্তা বলেন, সমস্যার দ্রুত সমাধানে তিন শিফটে কাজ করছে ওয়াসা। মাটির নিচের কাজ হওয়ায় কিছু কারিগরি জটিলতা রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করছে পানির স্তর পাওয়ার ওপর। তাই পানির সমস্যা সমাধানে কত দিন লাগতে পারে, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এই সংকটের সময়ও সেখানে বকশিশ বা ঘুষ ছাড়া পানি না পাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়াসার ওই কর্মকর্তা বলেন, এমনটা তিনিও শুনেছেন। তিনি বলেন, কিন্তু কেউ যদি স্বেচ্ছায় তাদের টিপস (বকশিশ) দেয়, সেটা তাদের দেখার বিষয় না।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন