বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আলী আম্মার মুয়ায। এতে বলা হয়, ‘২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন আশিকুল ইসলাম। ২২ মে কেমিকৌশলের একটি কোর্সের ক্লাসে তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

আমরা জেনেছি যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আশিকুল তার বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পায় এবং বুয়েটে তার একাডেমিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করে। ৪ এপ্রিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ আবেদনের সাপেক্ষে আশিকুলকে ক্লাস করার অনুমতি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দেওয়া হয় এবং বুয়েটের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম মাইক্রোসফট টিমসের সংশ্লিষ্ট কোর্সগুলোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে তাঁকে কেমিকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের সঙ্গে লেভেল-৩ টার্ম-১-এর অন্তত চারটি কোর্সে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বুয়েটের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ভিত্তিতে আবরার ফাহাদ হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ততা ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, র‌্যাগিং-নির্যাতনের বহু ঘটনায় আশিকুলের বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশিকুল ইসলামের সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কোনো শর্তেই ইচ্ছুক নই বলে বুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উত্থাপন করি। এ ছাড়া ২৯ মের মধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো কার্যকর না করলে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৩০ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে বাধ্য হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে আশিকুলের কোর্স রেজিস্ট্রেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে সে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কোর্সগুলোয় তার অন্তর্ভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাদের এই বলে আশ্বাস দিয়েছে যে অবিলম্বে আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীরা আশাবাদী যে বুয়েট কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করবে। এর পাশাপাশি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড বা র‌্যাগিংয়ের মতো ঘৃণ্য অপরাধের জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যেন কখনো একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরত আসতে না পারে, সে বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ তৎপর থাকবে বলে আশা করি। ২৯ মের মধ্যে বুয়েট কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপগুলো এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নোটিশ আকারে প্রকাশ করা হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা প্রত্যাশা রাখি যে ২৯ মের মধ্যে বুয়েট কর্তৃপক্ষ আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কোনো কারণে এই সময়ের মধ্যে আপিল করতে না পারলে, আপিল করার প্রতিশ্রুতি একটি গ্রহণযোগ্য সময়সীমাসহ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করবে।’ দুটির যেকোনো একটি কার্যকরের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় দুই মাস অচল ছিল বুয়েট। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশিকুলসহ ২৬ জনকে আজীবন বহিষ্কার করেছিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় আশিকুলকে আসামি করেনি পুলিশ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন