বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে প্রারম্ভিক বক্তৃতায় নাওকি ইতো সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগর প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা—এই চার বিষয়ে জোর দিচ্ছে জাপান।

ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সামনে রেখে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে ইন্দো–প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে (আইপিএস বা ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল) বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার কথা বলছে জাপান। এ নিয়ে জানতে চাইলে নাওকি ইতো সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর জাপানের বিগ বির অংশ এবং বিগ বিতে অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় ধারণার কথা বলা হয়েছে। নীতিগত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে আমাদের বিনিয়োগ করাটা জরুরি। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ফলে মাতারবাড়ীর সাফল্য এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরবে। ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় ধারণার বাস্তবায়নে জাপানের অংশীদার হতে পারে বাংলাদেশ। এর মূল আদর্শগুলো বাংলাদেশও অনুসরণ করে। বাংলাদেশও এ অঞ্চলের শান্তি স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি চায়। বাংলাদেশ চায় না, এমন কোনো সহযোগিতার প্রস্তাব আমরা চাপিয়ে দেব না।’
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ থাকা জরুরি। সেখানে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে খুব শিগগির রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের একাংশকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া সফল হবে বলে মনে করেন তিনি।

মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে চাপ দিতে পারে, জানতে চাইলে ঢাকায় জাপানের শীর্ষ ওই কূটনীতিক বলেন, এটা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাজটি কীভাবে করবে তার ওপর। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সেটা হতে পারে। আবার জাতিসংঘে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেও এটা করা যায়।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে জাপানের আলোচনা এবং রাখাইনে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে নাওকি ইতো বলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের আগে থেকেই প্রত্যাবাসন নিয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে আসছে। রোহিঙ্গাদের জন্য এ পর্যন্ত যে ২১৪ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা জাপান দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ মিলিয়ন দেওয়া হয়েছে রাখাইনের উন্নয়নে। আমি মনে করি না, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জাপান চুপ করে বসে রয়েছে। আমরা হয়তো মুখ্য ভূমিকায় নেই। তবে আমরা আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছি। এ অঞ্চলর শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।’

নভেম্বরে টিকা পাঠাচ্ছে জাপান
আগামী নভেম্বরে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও টিকা পাঠাবে জাপান। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩০ লাখ টিকা উপহার দিয়েছে জাপান। এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) বাংলাদেশের হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাঠানো হবে বলেও জানান জাপানের রাষ্ট্রদূত।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জোর
বাংলাদেশের বৃহদায়তন অবকাঠামো প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, অবাকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের চেহারা বদলে যাবে। তখন এর সুফল নিতে পারে বাংলাদেশ। এই শতকে এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির হার বেশ ভালো। জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। গত বছরের তুলনায় এবারের জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে কঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশ উন্নতির ওপর জোর দেন তিন। টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (অর্থ স্থানান্তরের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি) ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নগদ প্রণোদনার ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রসঙ্গগুলো উল্লেখ করেন ইতো।

নাওকি ইতো বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের সুযোগ নেই। আবার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয় না। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে এ বিষয়গুলোর সুরাহা হওয়াটা জরুরি।

তাঁর মতে, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইতে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল সফল হলে বাংলাদেশে এ ধরনের তৃতীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে।

ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন