পুতুলনাচের মঞ্চ থেকে বের হয়ে রাস্তার বাঁ পাশের ফুটপাতে বাঁশির পসরা সাজিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় একজনকে। তাঁর পাশে একজন চিত্রশিল্পীও আছেন। তিনি ১০ মিনিটেই এঁকে দেন যে কারোর ছবি।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, চুড়ি, মালা, হাতে কাজ করা থ্রি–পিস, চামড়ার জুতা-ব্যাগ-মানিব্যাগ, হাতের কাজ করা থ্রি–পিসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

default-image

পোশাকের পাশাপাশি পুতুল, মাটি–শঙ্খ–কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র, হাতপাখা, কাগজের ফুল, মাটির টমটম, বেলুন বাঁশি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, তাঁতের কাপড়চোপড়, সুলার ফুল, নাগরদোলা, শুটার, ভূতের বাড়ি, সাম্পান নৌকা, চরকি, পুতুল ব্যাগসহ পাটের নানা জিনিস, মাশরুমের নানা খাবার, চটপটি-ফুচকা, বেতের শো পিসসহ নানা রকম জিনিস নজর কাড়ে নানা বয়সী দর্শনার্থীদের।

আয়োজকেরা জানান, মেলায় মোট ১০০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি স্টল ফ্রি। যেসব উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছেন, তাঁরা বিসিকের নিবন্ধন বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বিসিক উদ্যোক্তা ফোরামের সদস্য।

সাত বছরের সন্তান শামসুল হক নিহাতকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন সূত্রাপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন। মেলার আয়োজনে তিনি তেমন সন্তুষ্ট নন। তবে তাঁর ছোট্ট ছেলেটি বেজায় খুশি। মেলা থেকে কেনা বেলুনের বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে নিহতা জানায়, এটা তাঁর খুবই ভালো লেগেছে।

এ সময় কয়েকজন দোকানির কাছে জানতে চাওয়া হয় বেচাকেনা কেমন? তাঁদের মধ্যে অনেকেই জানালেন, বেচাকেনা ভালো না। তাঁদের অভিযোগ, বাংলা একাডেমিতে মেলা হলেও টিএসসি কিংবা শাহবাগ এলাকায় এ নিয়ে কোনো পোস্টার–ব্যানার নেই। প্রথম দুই দিন মেলায় মাইকের আয়োজনও ছিল না। তবে শনিবার মেলার মূল ফটকে মাইকের মাধ্যমে প্রচার চালাতে দেখা গেছে। দোকানিরা পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘লোকই তো নাই। বেচাকেনা হবে কোথা থেকে? প্রচার নেই। ব্যানার নেই।’

default-image

তবে অনেকের আবার বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। স্টল সাজিয়ে বসা ইরা বুটিকের কর্ণধার এলিনা রাহি ইরা বলেন, ‘আমার এখানে হরেক রকম পণ্য। বিক্রিও বেশ ভালোই হচ্ছে।’

মেলার প্রচার হচ্ছে না, এমন অভিযোগ ঠিক না বলে মনে করেন বিসিক উদ্যোক্তা ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজবিন হাফিজ। তিনি বলেন, প্রতিদিনই গণমাধ্যমে মেলার প্রচার চলছে।

রেজবিন হাফিজ বলেন, ‘বিভিন্ন রকমের চুড়ি, মালা, কাঁসা, পিতল, হাঁড়ি–পাতিল সবকিছু নিয়ে চেয়েছি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শহরটাকে গ্রামের আদলে পরিপূর্ণতা দিয়ে মেলা করতে। মেলার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি ঐতিহ্যকে ধরে রাখার।’

করোনার কারণে গত দুই বছর বৈশাখী মেলা বন্ধ ছিল। ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা শুরু হয়েছে। চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টায় শুরু হয়ে এই মেলা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বিসিক উদ্যোক্তা ফোরাম ও ঐক্য ফাউন্ডেশন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন