default-image

কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আর পবিত্র রমজান মাসের শুরুটা ছিল একই দিনে। এ দুই কারণে গত সপ্তাহে আতঙ্কের কেনাকাটা করতে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পরেছিলেন ক্রেতারা। হঠাৎ চাহিদা বাড়ার সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সবজির দামও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

তবে সপ্তাহ না ঘুরতেই পাল্টে গেছে চিত্র। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে বৃহস্পতিবার ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিল। ক্রেতাস্বল্পতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আর সবজির দামও আগের তুলনায় কম কিংবা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী মিরপুর ১–এর শাহ্ আলী মার্কেট কাঁচাবাজার, মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজার এবং বিকেলে কারওয়ান বাজার ঘুরে প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ গত শুক্রবারই এই বেগুন আর শসা দ্বিগুণ দামে যথাক্রমে ১০০ আর ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার এই তিন বাজারে প্রতি কেজি পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি ও করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহে এই সবজিগুলোই ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মিরপুর শাহ্ আলী কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোস্তাফা আহমেদ বলেন, ‘ক্রেতা নাই, তাই মাল বেচতে পারছি না। এমন সময় দাম বেশি চাইয়া কি মাল নষ্ট করুম?’

মরিচ বিক্রেতা শান্ত ইসলামের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বললেন, ‘লকডাউন শুরুর আগে ও পরে কয়েকটা দিন, দিনে দুই থেকে আড়াই শ কেজি মরিচ বিক্রি করেছি। এখন সারা দিনে এক শ কেজিও বেচতে পারি না।’ তাঁর দোকানে দুই ধরনের মরিচ তিনি ৪০ ও ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

default-image

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজি বিক্রির অংশে টুকটাক ক্রেতা আছে। তবে অলস সময় কাটাচ্ছেন মুদিদোকানি ও মাংস বিক্রেতারা। অলস ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পণ্যের দাম বলে ডাকাডাকিও করছিলেন।

এই বাজারের মুদি পণ্য বিক্রেতা জুনাইদ আলম বলেন, লকডাউন শুরুর আগে অনেকে ৫ থেকে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ-আলু কিনেছে। এখন কেউ এক-দুই কেজির বেশি কিনছে না। তাঁর দোকানে প্রতি কেজি আদা (দেশি) ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, আলু ২০ টাকা, রসুন (চায়না) ১১০ টাকা ও রসুন (দেশি) ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ইফতারি তৈরিতে লাগে এমন বিভিন্ন পণ্যের দামও কমে গেছে। কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের মুদিদোকানিরা গত সপ্তাহে বাজারের ফর্দ ধরে পণ্য মাপতে মাপতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই দোকানিরা বৃহস্পতিবার বিকেলে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। কেউ কেউ মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কেউবা গল্পে মেতেছিলেন পাশের দোকানির সঙ্গে।

এই বাজারে মসুর ডাল (সরু দানা) ৯৫-১০০ টাকা এবং মোটা দানা ৬৫-৭০ টাকা, অ্যাংকর ডালের বেসন ৫৫-৬০ টাকা, বুটের ডালের বেসন ৯০-১০০ টাকা, ছোলা ৫৫-৬০ টাকা আর চিনি ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এদিকে মিরপুর-১ ও মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের বাজারে মুরগির দাম আগের তুলনায় কমেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল, কৃষি মার্কেট, ধানমন্ডির রায়েরবাজারেও মুরগির দাম কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই বাজারগুলোতে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা, সোনালিকা (কক) ২৪০ টাকা, লেয়ার (লাল) ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর দেশি মুরগি (ওজন অনুসারে) ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

তবে অন্য বাজারের তুলনায় ক্রেতা বেশি আসায় দাম তেমন কমাননি কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। মিরপুর-১ নম্বরের মুরগি ব্যবসায়ী হায়দার আলীর দোকানে ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা, সোনালিকা (কক) ২৪০ টাকায় বিক্রি হলেও কারওয়ান বাজারের ভাই ভাই মুরগি আড়তের মালিক আমান উল্লাহর দোকানে ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, আর সোনালিকা (কক) ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে খাসি ও ছাগলের মাংসের দামও অন্য বাজারের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি ছিল। খাসির মাংস ৯০০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বেচেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের মাংস ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করে দিলে ভালো হতো। তাহলে দামের ফাঁরাক থাকত না।

তবে কারওয়ান বাজারের তুলনায় ২০ টাকা বেশি অর্থাৎ ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করেন মিরপুর-১ ও মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের মাংস ব্যবসায়ীরা। মিরপুর-১ নম্বর বাজারের মাংস ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, হাটেই তাঁর প্রতি কেজি মাংসের পেছনে ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা খরচ হয়।

এ ছাড়া কারওয়ান বাজারে আকার অনুয়ায়ী, প্রতি কেজি কাতল মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, ইলিশ (১ কেজির নিচে) ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি, (১ কেজির ওপরে ওজন) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ৩০০-৪০০ টাকা, পাবদা ২৫০-৩৫০, আইড় (মাঝারি) ৩৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন