ডিএমপি কমিশনার বলেন, মুঠোফোন আনলে পাঞ্জাবির পকেটে না রেখে তা যেন হাতে রাখা হয়। কারণ, একশ্রেণির মানুষ নামাজ পড়তে না এসে চুরির সুযোগ খোঁজে। তবে ঈদগাহে ব্যাগসহ অন্য কিছু আনার সুযোগ থাকবে না।

ঈদের ছুটিতে ঢাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণত যে বিষয়গুলো বলে থাকি, সেগুলো যদি মানুষ মেনে চলে, তাহলে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়। যে যেখানেই যান, আপনার মূল্যবান সম্পদের হেফাজত নিজ থেকে করবেন। যাঁরা ঢাকা থেকে বাড়িতে যাবেন, তাঁদেরকে বাসার গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র, বিশেষ করে স্বর্ণ ও টাকা ব্যাংকের লকারে রেখে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঢাকার আশপাশ থেকে ইতিমধ্যে কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জঙ্গিরা সব সময় হামলার সুযোগ খোঁজে। আমরাও তৎপর আছি। তাই আমরা পীর সাহেবদের মাজার ও শিয়াদের ঈদগাহগুলোতে বেশি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, শপিং মল ও স্বর্ণের দোকানের নিরাপত্তার জন্য ১৫ দিন আগে থেকেই মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীদের তথ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে অপরাধ করে কেউ পালিয়ে থাকতে না পারেন। কারণ, বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে অনেক নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশ থাকে।

মোটরসাইকেল চলতে দেওয়া নিয়ে কমিশনার বলেন, ‘শর্ত সাপেক্ষে মোটরসাইকেল চলতে দেওয়া হবে। সারা দেশে এক ফরম্যাটে পাস ফরম করা হয়েছে। যাঁর যাওয়া প্রয়োজন, তাঁকে অনুমতিপত্র নিয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য মানুষকে নিরাপদে যেতে দেওয়া, কাউকে আটকে রাখা নয়।’

গরুর বাজারের নিরাপত্তা সম্পর্কে বলেন, এখনো ভালো আছে। কোনো ধরনের মলম বা অজ্ঞান পার্টির ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। বাজারে পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। বাজারে বেশি হাসিল যেন ইজারাদাররা না নিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে।

জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, আগে থেকেই ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করানো হচ্ছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। জাতীয় ঈদগাহে স্থাপিত অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে। যে যেখানে নামাজ পড়েন না কেন, ডিএমপি সার্বক্ষণিক মানুষের নিরাপত্তায় রয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন