বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘বাবুরাজ’ লালচে রঙের গরু। নেত্রকোনা থেকে বাবুরাজকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধূপখোলা মাঠে এনেছেন সাইফুল ইসলাম। বলছেন, বাবুরাজের ওজন ২৫ মণ। দাম হাঁকিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। নজরকাড়া গরুটির দুটি শিঙে নাম লেখা বাবুরাজ। লোকজন গরুটি দেখতে ভিড় করছেন। দরাদরি চলছে। ঈদের আরও দুদিন বাকি থাকায় ভালো দাম পেলে বাবুরাজকে বিক্রি করবেন সাইফুল ইসলাম।

default-image

কৃষক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার গরুটি দেখতে ক্রেতারা সবাই ভিড় করছেন। কিন্তু যে দাম তাঁরা বলছেন, সেই দামে আমার পক্ষে বিক্রি করা সম্ভব নয়। আমি শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’ বাবুরাজ ধূপখোলা মাঠের প্রবেশপথের বাঁ পাশে বাঁধা আছে। একই মাঠে আছে ‘রাজাবাবু’ নামের আরও বড় একটি গরু।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থেকে গরু ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন গরুটি ধূপখোলা মাঠে তুলেছেন। ইসমাইল বলছেন, বিশাল এই গরুর ওজন ৩৩ মণ। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। ক্রেতারা অবশ্য গরুটির দাম বলছেন ৯ লাখ টাকা। গরুর মালিক ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এই গরুর নাম রেখেছি রাজাবাবু। রাজাবাবু আমার বাড়িতেই বড় হয়েছে। আমার বাড়িতে ওর জন্ম। চার বছরের ব্যবধানে আমার রাজাবাবু এত বড় হয়েছে।’

default-image

ঈদের আর মাত্র বাকি দুদিন। দুদিন আগে রাজধানীর গরুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। গরুর হাটে ক্রেতার আনাগোনা বেড়েছে। কেউ কেউ গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন। তবে মাঠে থাকা গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি হবে। তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা এটাই বলে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠ, যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এবং পুরান ঢাকার ধোলাই খালের গরুর হাট ঘুরে দেখা গেল, মূলত ছোট গরু কেনার প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে ধোলাই খাল থেকে ছোট আকারের একটি গরু কিনে বাড়ি ফিরছিলেন পুরান ঢাকার আমিনুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার পুরান ঢাকায় ব্যবসা আছে। তবে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছি। তারপরও কোরবানি দিতে হবে। এ জন্য আজ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ছোট আকারের একটি গরু কিনেছি।’

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর টানা ৬৬ দিন অফিস-আদালত ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। এতে অনেকে চাকরি হারান। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে পথে বসে যান। এরপর গত রমজান মাসেও সরকারি বিধিনিষেধে দোকানপাট কিছুদিন বন্ধ ছিল। বেশির ভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁরা পুঁজি হারিয়েছেন।

চলতি মাসে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধে দোকানপাট সব বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ ছিল। ঈদের আগে মাত্র আট দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল ঘোষণা করেছে সরকার। আবার ঈদের এক দিন পর ২৩ জুলাই থেকেই শুরু হবে কঠোর বিধিনিষেধ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন