default-image

ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভেতর প্রতিষ্ঠানটিরই এক কর্মী আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই কর্মী নিজেই তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়েছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আর্থিক সংকট তাঁর ‘আত্মহত্যার’ কারণ হতে পারে।

ওই কর্মচারীর নাম আজিজুল ইসলাম মিলন (৩০)। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে ইনস্টিটিউটের টয়লেট থেকে তাঁকে দগ্ধ অবস্থায় সহকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল আটটায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মীর জহিরুল ইসলাম মর্গে সাংবাদিকদের বলেন, আজিজুল হাসপাতালে অভ্যর্থনাকারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল দিবাগত রাতে তিনি কাজে আসেন। রাত পৌনে একটার দিকে তিনি নিচতলায় অভ্যর্থনাস্থলের পাশের একটি টয়লেটে যান। এরপর নিজের গায়ে স্পিরিট ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।হাসপাতালে কর্মরত অন্যরা ওই টয়লেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার শুনে তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর শরীর প্রায় পুরোটাই পুড়ে যায়। আইসিউইতে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থার তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আজিজুল নিজেই শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আজিজুলের বাড়ি খুলনার খালিশপুরে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পুরান ঢাকার হাবিবুল্লাহ সড়কের একটি বাসায় থাকতেন তিনি। সেখান থেকেই হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালে যাতায়াত করতেন তিনি। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, আজিজুল হাসপাতালের স্থায়ী কর্মচারী নন। মাসিক বেতন ভিত্তিতে তিনি কাজ করতেন। তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১৭ হাজার ৬১০ টাকা।

আজিজুল আর্থিক সংকটে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে মনে করেন সহকর্মী জহিরুল। তিনি বলেন, হাসপাতালে মাসিক ভিত্তিতে ৩৫৫ জন কাজ করেন। কিন্তু তিন মাস ধরে সবার বেতন বন্ধ। আজিজুল তাঁর কাছে থেকেও ধার নিয়েছেন।

আজিজুলের লাশ নিতে মর্গে এসেছিলেন তাঁর বোন সৈয়দাতুন্নেসা আঁখি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, খুব গরিব পরিবারের সন্তান তাঁরা। মা–বাবা ছোটবেলায় মারা গেছেন। আজিজুলের সঙ্গে তাঁদের তেমন কোনো যোগাযোগ ছিল না। নিজের মতোই থাকতেন তিনি। লাশ নিয়ে যাওয়ার টাকাটাও তাঁর কাছে নেই। আজিজুলের সহকর্মীরা সংগ্রহ করে দিচ্ছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল প্রথম আলোকে বলেন, কর্মচারীদের বেতন এখানে দু–তিন মাস পরপরই একসঙ্গে দেওয়া হয়। আজিজুল গত দুই বছর এভাবেই বেতন পেয়ে আসছিলেন। ফলে বেতন আটকে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আজিজুল আত্মহত্যা করেছেন বলে তিনি মনে করেন না।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন