ক্যাব প্রণীত ভোক্তার জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণে বিইআরসি আইন ও বিইআরসির ভূমিকা মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক বাজার নেই। সরকার ও প্রাইভেট সেক্টর ভোক্তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করে চলছে। তাহলে ভোক্তা যাবে কোথায়? বিইআরসি আছে, কিন্তু তারা গণশুনানি পর্যন্ত করতে চায় না। এলএনজি নিয়ে ২০০৯ সালের গণশুনানি করতে বিইআরসির ২০২১ সাল পর্যন্ত লেগে গেল। কারণ, প্রতিষ্ঠানটির দাঁত নেই। এটি দন্তহীন বাঘে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়তে পারে, ধান উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে, সেটা এই সরকারের আমলারা মনে হয় জানতেন না।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বিইআরসি গত সাড়ে সাত বছরে ৪৩ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তাহলে কেন সমন্বয় না করে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো?

সভায় মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আইন কোনো কাজে আসছে না। সেখানে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে এই আইনের বেশ কিছু ধারা পরিবর্তন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ক্লাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিইআরসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করেন গোলাম রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানির প্রভাব সব ক্ষেত্রে পড়ে। তাই বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল থাকা দরকার।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া। অন্যদের মধ্যে মধ্যে বক্তব্য দেন ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মনজুর-ই-খোদা তরফদার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুশান্ত কুমার দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাফিস শামস প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন