দীপেন ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯৫৯ সালে। তাঁর আদি নিবাস টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায়। তিনি মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। বর্তমানে এই জ্যোতির্বিদ পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কমিউনিটি কলেজে। পাশাপাশি তিনি ক্যালিফোর্নিয়া মোরেনো ভ্যালি কলেজে পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান পড়ান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দীপেন ভট্টাচার্যকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় বই। এরপর অনুষ্ঠানে দীপেন ভট্টাচার্য তাঁর লেখা নিয়ে আলোচনা করেন। সে আলোচনায় উঠে আসে বিজ্ঞান, মানুষের অস্তিত্ব, ম্যাধ্যাকর্ষণ শক্তি, বল, কৃষ্ণগহ্বরসহ জাগতিক ও মহাজাগতিক নানা বিষয়।

দীপেন ভট্টাচার্য বলেন, কৃষ্ণগহ্বরে (ব্ল্যাকহোল) আলো বের হতে পারে না। কাজেই ভবিষ্যতে কী হবে তা কেবল নতুন নতুস মডেলের আদলে অনুমান করে বলা সম্ভব। এর সঙ্গে জার্মান বিজ্ঞানী হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির যোগসূত্র আছে। কিছু বিষয় প্রকৃতি আড়াল করে রাখবেই।

যুক্তরাষ্ট্রে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট ইনস্টিটিউটের গবেষক ছিলেন দীপেন ভট্টাচার্য। মানবসভ্যতার অস্তিত্ব ও প্রকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতির কিছু জ্ঞান আমরা কখনোই পাব না। যতই আমরা বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ব্যবহার করি না কেন, তা অস্পষ্টই থাকবে। এটাই প্রকৃতির রহস্য। সমাজ এভাবেই চলবে।’

সত্তরের দশকে দীপেন ভট্টাচার্য উচ্চমাধ্যমিকে পড়তেন। সে সময় ঢাকার পরিবেশ প্রসঙ্গে দীপেন ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। ওয়ারীতে আমাদের বাসার ছাদ থেকে আমি নিয়মিত আকাশ দেখতাম। সে সময় আকাশ এতই পরিষ্কার ছিল যে ছায়াপথও দেখা যেত।’

দীপেন ভট্টাচার্যের রয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বই—‘অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো’, ‘দিতার ঘড়ি’, ‘নিওলিথ স্বপ্ন’, ‘নিস্তার মোল্লার মহাভারত’, ‘বঙ্গীয় ব–দ্বীপের অতীত ও ভবিষ্যৎ’।

লেখালেখি প্রসঙ্গে দীপেন ভট্টাচার্য বলেন, বাংলা সংস্কৃতির প্রতি একটা আলাদা অনুরাগ তৈরি করতে হবে। সংস্কৃতি না বুঝলে তা সাহিত্য আকারে বোঝানো যাবে না। যাদের জন্য অনুবাদ, তারা যেন তা বুঝতে পারে। সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও তার পরিচয় লেখায় ফোটাতে হবে।

১৯৭৫ সালে তিনি বন্ধুদের সহযোগিতায় ‘অনুসন্ধিৎসু চক্র’ নামে একটি বিজ্ঞান সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। অনুষ্ঠানে জলধির স্বত্বাধিকারী নাহিদা আশরাফী, লেখক নিশাত জাহান, কবি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন