default-image

বাংলাদেশে অবৈধ বিটকয়েন ‘লেনদেনে’ গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন ওরফে সুমনের সঙ্গে পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও রাশিয়ার ক্রেডিট কার্ড হ্যাকারদের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ করেছে র‍্যাব।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় র‍্যাব বলেছে, ইসমাইল ওই সব বিদেশি হ্যাকারের সঙ্গে জোট বেঁধে প্রতারণা করে আসছিলেন। বাড্ডা থানায় মঙ্গলবার র‌্যাবের পক্ষ থেকে এই মামলা করা হয়।


গত ২ মে রাতে বাড্ডার ইকবাল ভিলা থেকে ১১ সহযোগীসহ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন


খন্দকার আল মঈন প্রথম আলোকে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৩/৩৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় ইসমাইল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অর্থ পাচারের বিষয় জড়িত থাকায় মামলাটি তদন্ত করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সে কারণে র‌্যাব আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার পর আর রিমান্ডের আবেদন করেনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে।


মামলার এজাহারে র‌্যাব বলেছে, আসামি নিজেকে অন্য একটি দেশের অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, রাশিয়ার অর্থ পাচারকারী ও ক্রেডিট কার্ড হ্যাকারদের সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন। তা ছাড়া বিটকয়েন ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে অবৈধ ব্যবসা করে আসছিলেন। বিটকয়েন লেনদেনে তিনি একাধিক ব্যাংক হিসাব কাজে লাগিয়েছেন। বিটকয়েন ব্যবসা করে তিনি গত বছর ১২–১৫ লাখ ডলার লেনদেন করেন। গ্রেপ্তারের সময়ও তাঁর ওয়ালেটে প্রচুর টাকা ছিল।

২০১৩ সাল থেকে তিনি এই ব্যবসা করছেন। শুরুতে ছোট একটি অফিস থাকলেও এখন ৩২ জন কর্মচারী নিয়ে বড় আকারে ব্যবসা করছেন। তিনটি পালায় ২৪ ঘণ্টায়ই তাঁর অফিস চালু থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিটকয়েন ব্যবসা লাভজনক হয়ে উঠেছে। বিটকয়েন একধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা। ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করে বিটকয়েন কেনাবেচা করছেন অনেকে। বাংলাদেশে বিটকয়েনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় ওয়েবসাইটে নাম লেখানোর পর যে যে দেশে বিটকয়েনের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নেই, সেসব দেশ থেকে ডলার বা কোনো পণ্যের বিপরীতে প্রথমে একজন বিটকয়েন সংগ্রহ করেন। এরপর লেনদেন করেন। ইসমাইল কীভাবে প্রথম তাঁর অ্যাকাউন্ট খোলেন ও বিটকয়েন কেনেন, সে সম্পর্কে জানায়নি র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন


অপরাধ প্রমাণিত হলে এই মামলায় ইসমাইল ও তাঁর সহযোগীদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই ভোগ করতে হতে পারে। আর দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারা এসেছে জালিয়াতির অভিযোগ থেকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৩ ধারার অভিযোগ হলো, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রতারণা। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছা করে বা জেনে–বুঝে অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্য পরিবর্তন করলে, মুছে ফেললে, নতুন কোনো তথ্যের সংযুক্তি বা বিকৃতি ঘটালে এবং নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া বা ক্ষতি করার চেষ্টা বা ছলনা করলে তা এই ধারার অপরাধের মধ্যে পড়ে। এই অপরাধে সহযোগিতার জন্য ৩৫ ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে।


 
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আসামির অপরাধের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ইসমাইল যে বাসায় অফিস নিয়েছিলেন, সে বাড়ির মালিক মো. ইকবাল বাহারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ২০১২ সাল থেকে ইসমাইল তাঁর বাসায় সপরিবার থাকেন। তখন পুরান ঢাকায় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৫ সালে তিনি তাঁর বাড়িতেই অফিস চালু করেন। তিনি বিটকয়েনের ব্যবসা সম্পর্কে কিছু ‘জানেন না’। ঘটনার দিন র‌্যাব ইসমাইলকে তাঁর দুই বন্ধুসহ মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে বাড্ডায় নিয়ে আসে। এর চেয়ে বেশি তিনি জানেন না।


 
সোমবার ইসমাইল হোসেন ওরফে সুমনের গ্রেপ্তার নিয়ে ফেসবুকে অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, উন্নত দেশগুলো যেখানে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিটকয়েন ব্যবহারের অনুমোদন দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের এই কড়াকড়ি ঠিক নয়।  


এদিকে ভার্চ্যুয়াল জগতে বিটকয়েন নিয়ে বাংলায় প্রচার চালাচ্ছেন অনেকেই, আছে টিউটোরিয়ালও। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য চেয়েছিল প্রথম আলো। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগির বিটকয়েন অনুমোদন দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিটকয়েনের ভালো–মন্দ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন