default-image

বিদ্যালয়ের সামনে ডাস্টবিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। পরদিন ডাস্টবিন তথা বর্জ্যের কনটেইনারগুলো সরিয়ে নেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু এখন আবার এই স্থানে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়টির পরিবেশ আগের মতোই নোংরা হচ্ছে।

পুরান ঢাকার বংশাল তথা নর্থসাউথ রোডের সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের চিত্র এটি। একই ক্যাম্পাসে রয়েছে সুরিটোলা উচ্চবিদ্যালয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এই বিদ্যালয়ের সামনে রাখা ডাস্টবিনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর কয়েক দিন পর সেটি সরিয়ে নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সেখানে বর্জ্য না ফেলতে ব্যানারও টানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহখানেক পর আবার সেখানে অল্প অল্প করে বর্জ্য ফেলা শুরু করেন মহল্লার কিছু লোক। দিনে দিনে অবস্থা আবার আগের মতোই হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ডিএসসিসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকদের ডেকে এনে বিদ্যালয়ের সামনে বর্জ্য না ফেলতে অনুরোধ করেছে। কিন্তু অনেকে তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। বিদ্যালয়টিকে ময়লার ভাগাড় বানানো হচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুরিটোলা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে নর্থসাউথ রোডের ওপর বর্জ্য স্তূপ হয়ে রয়েছে। সেগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য সংগ্রহ করছেন কয়েকজন লোক। নাক-মুখ চেপে রাস্তা চলাচল করছেন পথচারীরা। বাতাসে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতর ঢুকছে। এর মধ্যেই শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এই দুটি বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুরিটোলা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী আফরিন শাম্মি বলে, ‘আমাদের প্রতিদিন ময়লার স্তূপ পেরিয়ে স্কুলে ঢুকতে ও বেরোতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে নাকে–মুখে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে বর্জ্যের দুর্গন্ধ সরাসরি বিদ্যালয়ে ঢোকে। এতে ক্লাস করতে কষ্ট হয়।’

সুরিটোলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কান্তি গুহ বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে গত ডিসেম্বরে অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের জনসচেতনতামূলক একটি সভা করা হয়েছে। এই সভায় বিদ্যালয়ে ও আশপাশে ময়লা–আবর্জনা না ফেলার জন্য তাদের অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আপত্তির পর বর্জ্যের কনটেইনারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন করে সেখানে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। আজ রোববার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0