বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তর খোলা। জরুরি কাজে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী অফিস করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরও খোলা ছিল। তবে কর্মকর্তা–কর্মচারী ছিল দু–একজন। এই মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য দপ্তর বন্ধ দেখা যায়। কিছু কিছু কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত মূল কাজের সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিতি অন্যান্য জরুরি দপ্তরের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। মন্ত্রীর দপ্তর খোলা ছিল। সেখানে একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারীকে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অফিসে আসেননি।

উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানালেন, কাল শুক্রবার রাতে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে মডার্নার টিকা আসবে। এদিন প্রায় ১২ লাখের মতো করোনার টিকা আসার কথা। পরদিন বাকি টিকা মিলিয়ে দুদিনে ২৫ লাখ টিকা আসবে।

default-image

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারী নেই। মন্ত্রীসহ অন্যদের দপ্তর বন্ধ। অধিকাংশ দপ্তরেই ছিল একই চিত্র।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শপিং মল, দোকানপাট এবং গণপরিবহন ছাড়াও এবার সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র, জনসমাবেশ হয়—এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন (ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) ছাড়া কেউ কোনোভাবে ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিপত্রে বলা হয়, শিল্পকারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন কৃষিপণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, করোনার টিকাদান, রাজস্ব আদায় কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, কার্গো ভেসেল এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে না। বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ, স্থল) ও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইনে কেনা বা খাবার নিয়ে যাওয়া) করতে পারবে। হোটেলে বসে খাওয়া যাবে না। বিধিনিষেধ চলাকালে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাঁদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিধিনিষেধের সময় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। আদালতের কার্যক্রম চলবে সীমিত পরিসরে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন