default-image

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যার ইতিহাস একসময় মানুষ ভুলতে বসেছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এখন বিস্মৃতি থেকে স্মৃতিতে ফিরেছে সেই ইতিহাস। এখন সময় এ ঘটনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও বাংলা একাডেমির ফেলো মফিদুল হক।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার মূল মঞ্চে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: বাংলাদেশের ৫০ বছরের অভিযাত্রা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এ সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল হক। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আরও বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির ফেলো, লেখক ও গবেষক শাহরিয়ার কবির এবং লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ হান্নান।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি মফিদুল হক বলেন, একসময় দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে একাত্তরের গণহত্যার স্মৃতি ফিকে হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কেউ আলোচনা করতে চাইতেন না। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে দেশে-বিদেশে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এসবই এখন অতীত। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিস্মৃতি থেকে স্মৃতিতে ফিরেছে গণহত্যার ইতিহাস। এখন এটার স্বীকৃতি আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পাঁচ দশকে দেশের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে মফিদুল হক বলেন, একদম শূন্য থেকে এই দেশের যাত্রা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে দেশের পুনর্গঠন শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে আজকের বাংলাদেশের অগ্রগতি বেশ প্রশংসাযোগ্য। বিশেষত কৃষি খাতের অগ্রযাত্রা প্রশংসার দাবি রাখে। স্বাধীনতার পর এই দেশের মানুষের পাতে খাবার ছিল না। দুর্ভিক্ষে হাজারো মানুষ মারা গেছেন। ওই সময় তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক মহল তখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের টেস্ট কেস হিসেবে বিবেচনা করত। পাঁচ দশকের ব্যবধানে সেই বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

স্বাধীনতা–পরবর্তী প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তুলনা করে মফিদুল হক বলেন, ‘ওই সময় মার্কিন খাদ্যসহায়তার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়লে আমাদের দেশের সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় খবর ছাপা হতো। আর এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও গড় আয়ু বৃদ্ধিতে আমাদের অর্জন চোখে পড়ার মতো।’

তবে পাঁচ দশকের অগ্রযাত্রায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে সমাজে বৈষম্য বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন মফিদুল হক। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি আগামী দিনগুলোয় সামাজিক বিভাজন, ধর্মের অপব্যাখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

লেখক ও গবেষক শাহরিয়ার কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, ’৭৫-এর পর দেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার উদ্যোগ সক্রিয় ছিল। তবে শেষাবধি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জয় হয়েছে।

ধর্মীয় বিভাজন দূর করার ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর মূল ভিত্তি উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ’৭২-এর সংবিধান ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের দর্পণ। তাঁর অনবদ্য একটি অর্জন। ওই সংবিধানে বঙ্গবন্ধু রাজনীতি ও রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা রাখার কথা বলেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছেন। এটাই বঙ্গবন্ধুর চাওয়া ছিল। সেই চাওয়া পূরণ করা গেলে বর্তমানের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তার অগ্রসরতা ছিল অভাবনীয়। ওই সময় তিনি সংবিধানে সমাজতন্ত্রের বিধান যুক্ত করেছিলেন। অথচ ভারতের সংবিধানে তা আরও পরে যুক্ত হয়েছে। তিনি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে তাঁর সেই স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে আজকের বাংলাদেশ। তবে এ অগ্রযাত্রায় দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যের লাগাম টানতে হবে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন