default-image

রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। আজ বুধবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের সামনে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের পক্ষে মানববন্ধন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নগরবাসী নামের একটি সংগঠন। একই দিন বিকেলে কুকুর নিধনের বিপক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রাণীপ্রেমী ও পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন।

কয়েক দিন ধরে ডিএসসিসি এলাকার ৩০ হাজার কুকুর স্থানান্তর করার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন প্রাণীপ্রেমী সংগঠনগুলো। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষার বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করেছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সকালে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি নগরবাসী’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি থেকে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। বিভিন্ন অলিগলি ২০-৩০টি পর্যন্ত কুকুর দল করে দখল নিয়েছে, যা অত্যন্ত ভীতিকর বিষয়ও বটে। তাঁরা আরও বলেন, এসব কুকুরের দল কোনো পথচারীকে দেখলে আক্রমণ করে বসে, অনেককে কামড়ে আহত করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বা ভোরে নামাজের সময় মুসল্লিদের ওপর কুকুরের আক্রমণ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুকুরের কামড়ে যে শুধু জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ভয় থাকে তা-ই নয়, বরং হিংস্র কুকুরের কামড়ে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ছাড়া নিরাপদ সড়ক তৈরি করা বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু যত্রতত্র বেওয়ারিশ কুকুরের ঘোরাঘুরি নিরাপদ সড়কের বড় অন্তরায়। বিশেষ করে বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা খুবই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।


তাঁরা আরও বলেন, প্রাণীপ্রেমীদের যদি কুকুরের প্রতি এতই ভালোবাসা থাকে, তবে তারা কুকুরগুলোকে নিজ বাসায় নিয়ে রাখলেই পারেন, জনগণকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এদেরকে রাস্তায় দায়িত্বহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অন্যদিকে, বিকেলে নগর ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানান্তর করে কুকুর নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। রাজধানীর কুকুরগুলো যে এলাকায় স্থানান্তর করা হবে, ওই এলাকায় নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হবে। তাই কুকুর স্থানান্তর না করে বন্ধ্যত্ব করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। আইনগতভাবেই কুকুর স্থানান্তর করা বেআইনি বলেও উল্লেখ করেছেন প্রাণীপ্রেমীরা।

বিজ্ঞাপন

অভয়ারণ্য, কেয়ার ফর ফজ, পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং আমরাই প্রকৃতি নামের সংগঠনগুলো বিকেলের কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
এ সময় অভয়ারণ্যর রোবাইয়া আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি থেকে স্টেটমেন্ট দিয়েছে ৩০ হাজার কুকুর স্থানান্তর করবে। এটা বেআইনি একটি কাজ। গত বছর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কুকুরদের টিকা দেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকার থেকে কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে, আইনে বলা আছে কুকুর অপসারণ করা বেআইনি, সেখানে তারা এমন কাজ করবে, আমরা বিশ্বাস করিনি। গতকাল খবর পেয়েছি তারা ১৫টি কুকুর মাতুয়াইলে রেখে এসেছে। এক জায়গার কুকুর আরেক জায়গায় ফেলে দেওয়া মেরে ফেলার সমান। আমরা খুবই আহত, মর্মাহত। ব্যারিস্টার তাপস নিজে একজন আইন প্রণেতা হয়ে কীভাবে আইনবিরোধী সিদ্ধান্ত দেন।’

বিজ্ঞাপন

পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ফাইজা ফাইরোজ বলেন, ‘কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। কুকুর নিজের এলাকা ছেড়ে কারণ ছাড়া অন্য এলাকায় বের হয় না। এমনকি অন্য কুকুর নিজের এলাকায় দেখলে তা মেনে নিতে পারে না। এখন যে এলাকায় এসব কুকুর ফেলে আসা হবে, সেখানে যে তারা ভালোভাবে থাকতে পারবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ওই এলাকার মানুষের সমস্যা বাড়বে।

বন্ধ্যত্বকরণের পেছনে এই টাকা খরচ করলে এটি ফলপ্রসূ হবে। ২০১০ ও ২০১২ সালের আগে অনেকবার কুকুর নিধন করা হয়েছে। এতে কোনো লাভ হয়নি। এর চাইতে বন্ধ্যত্ব করা হলে বৈজ্ঞানিক মানবিক যৌক্তিক সমাধানে আসতে পারব।’

মন্তব্য পড়ুন 0