বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুপুরে যখন রয়েল এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টার মাস্টার নয়ন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়, তখন তিনি বলেন, সড়কে প্রচণ্ড যানজটের কারণে বাস সঠিক সময়ে গাবতলী আসতে পারছে না। সকাল সোয়া ৭টার বাস দুপুর সাড়ে ১২টায় ছেড়েছে। কিন্তু গাড়ির অভাবে এরপরের সিরিয়ালে বাসগুলো আর ছাড়তে পারেননি বলেও তিনি জানান।

বেলা তিনটার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে কাউন্টারগুলোর সামনে ছিল যাত্রীদের ভিড়। যারা অনলাইনে কিংবা অগ্রিম টিকিট কিনেছিল, তারা অপেক্ষা করছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কারণ, সড়কে প্রচুর যানজট থাকায় বাস নির্ধারিত সময়ে টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছিল না। এ কারণে তাৎক্ষণিক টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখে পরিবহনগুলো।

মো. তামজিদ চৌধুরীর রাজধানীর বাদামতলীতে ফলের ব্যবসা। ফল আনার জন্য রাজশাহীতে যেতে গাবতলী গিয়েছিলেন দুপুর ১২টার দিকে। গন্তব্যের উদ্দেশে তামজিদ যখন আরআর ট্রাভেলসের একটি পরিবহনে ওঠেন, তখন বিকেল সাড়ে চারটা।

তামজিদ চৌধুরী বলেন, ‘আগে থেকে কোনো বাসের টিকিট কাটা ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল, টার্মিনালে এসে যে বাস পাব, তাতেই উঠে পড়ব। কিন্তু চার ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও কোনো গাড়ি পাইনি। পরে এই গাড়িটিতে যাত্রীর জন্য ডাকাডাকি করতে দেখে উঠেছি। আধঘণ্টা হলেও তারাও এখনো গাড়ি ছাড়েনি।’

default-image

এই পরিবহনের চালক মো. আয়নাল আলী জানান, রাত দুইটায় নাটোরের জয়রামপুর সেনানিবাস থেকে গাবতলীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গাজীপুরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছান সকাল আটটার দিকে। সেখান থেকে গাবতলী আসতে সাড়ে সাত ঘণ্টা লেগেছে। সাড়ে তিনটায় টার্মিনালে পৌঁছে কোনোমতে শুধু দুপুরের খাবার খেয়েছেন। এরপরই আবার রওনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পরিবহনচালক ও শ্রমিকেরা বলছেন, নদী পারাপারে পাটুরিয়া ঘাটে প্রচণ্ড যানজট। প্রচুর কোরবানির পশুর ট্রাক আছে সড়কে। আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসার পথে সিরাজগঞ্জ থেকেই যানজটে পড়তে হচ্ছে।

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার জিকু মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৩০–৪৫ মিনিট পরপর বাসের সিরিয়াল আছে। কিন্তু বিকেল চারটা পর্যন্ত মাত্র দুটি বাস ছাড়তে পেরেছেন। একটা ছাড়া হয়েছে সকাল ১০টায়, অন্যটি বেলা ২টায়। যাত্রীর চাপ থাকলেও বাস না থাকায় ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন