কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ঈদের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে গত বুধবার থেকে। আজ শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। আজ সকাল থেকে স্টেশনে যাত্রীর চাপ গত তিন দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। একটু বেলা হতেই স্টেশনে যাত্রীর আনাগোনা বাড়ে। অনেকে যানজটের কথা চিন্তা করে একটু আগেভাগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে চলে আসছেন। তেমনি একজন চট্টলা এক্সপ্রেসের যাত্রী হাফিজুর রহমান। তাঁর বাসা মোহাম্মদপুর। বেলা ১টায় ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা। তবে যানজটের কথা ভেবে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুই ঘণ্টা আগেই স্টেশনে চলে এসেছেন।

হাফিজুর বলেন, ‘গত দু বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বাড়িতে যেতে পারিনি। বাড়িতে বাবা-মা, ভাই-বোনরা আছে। এবার একসঙ্গে সবাই ঈদ করব।’

কমলাপুর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আন্তনগর ও লোকাল মেইলসহ ২০টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আজ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে। চিলাহাটি নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬‍টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ট্রেনটি ৪০ মিনিট দেরি করে ৭টা ২০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ত্যাগ করে। পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ১০ মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বেলা ১১টার দিকে ওই ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

default-image

একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী একটি বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। গত দুই বছর করোনার কারণে ঈদে বাড়ি যাননি। এবার তিনি দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। শফিকুল বলেন, আধা ঘণ্টা, ৪০ মিনিট দেরি মানা যায়। এতে কোনো সমস্যা নয়। এটা স্বস্তির যে ট্রেনগুলো বেশির ভাগ সময়মতো ছাড়ছে। তবে বিমানবন্দর স্টেশনে গেলে বগিতে দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না। তখন কষ্ট বোঝা যাবে। যত কষ্টই হোক, বাড়িতে ফিরতে হবে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, এবারের ঈদযাত্রা সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ হয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি ট্রেন ২০ থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। এটাকে শিডিউল বিপর্যয় বলা চলে না সময়মতো ট্রেন ছাড়া নিয়ে যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করছেন।

মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, আমাদের বাড়তি কিছু টিকিট এবং ইমারজেন্সি কোটার কিছু টিকিট রেখে দেওয়া হয়। যখন প্রয়োজন হয়, তখন সঙ্গে সঙ্গেই সেই সব টিকিট অ্যাটাচ করে বিক্রি করা হয়। এ টিকিটগুলো অনস্পট কাউন্টারে পাওয়া যায়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ এই দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ আজ সারা দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ১২২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে।

ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাওয়া টিকিট প্রসঙ্গে স্টেশন ব্যবস্থাপক বলেন, একটি ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন) বিক্রি করার সিদ্ধান্ত আছে। সে অনুপাতেই কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি চলছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন