বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন পারভিন আক্তার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ৪০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আর বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে বাসটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই বাসের চালক বেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বাসের মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
ভাড়ার তালিকা না রাখা ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ৮ নম্বর বাস ছাড়াও কয়েকটি যাত্রাবাহী পরিবহনকে জরিমানা করা হয়েছে। আজ শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করেন। এ সময় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ভাড়া বেশি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় খারাপ আচরণের শিকার
শ্যামলী থেকে কারওয়ান বাজার যাচ্ছিলেন মো. সুজন মিয়া। তালিকায় ভাড়া সাড়ে ১২ টাকা লেখা থাকলেও, তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১৫ টাকা। সুজন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবাদ করেছিলাম। বাসের চালকের সহকারী ও কন্ডাক্টর আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে চেয়েছে।’

সুজন আক্ষেপ করে বলেন, ‘মগবাজারের একটি দোকানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মেরামতের কাজ করি। বেতনের টাকায় পরিবার নিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। ভাড়া বেড়েছে, বেতন তো বাড়েনি। সংসারের খরচ কমিয়ে বাড়তি ভাড়ার টাকার ব্যবস্থা করতে হবে।’

ওমর ফারুক নামের ঢাকা কমার্স কলেজের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা অর্ধেক ভাড়া দিয়ে এত দিন কলেজে যাতায়াত করেছি। এখন তারা পুরো ভাড়া নিচ্ছে।’ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

‘যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে শুধু জরিমানা করা হচ্ছে’

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে বাড়তি ভাড়া আদায় ও তালিকা না রাখার অভিযোগে তানজিল পরিবহন, বিকাশ পরিবহন, স্বাধীন পরিবহন ও ৮ নম্বর বাসসহ নয়টি বাসকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রাজধানীর আটটি এলাকায় বিআরটিএর এ অভিযান চলছে।

বিআরটিএ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ রুটের অনেক বাসের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাড়া বেশি নিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে আমরা জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছি।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে শৃঙ্খলা না ফেরা পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। যারা বাড়তি ভাড়া আদায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন