বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভোজ্যতেলের সংকট মহাখালী কাঁচাবাজারে

রাজধানীর বড় কাঁচাবাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম মহাখালী কাঁচাবাজার। এখানকার সাতটি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল আছে কি না, সে খোঁজ গতকাল বিকেলে নিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। এর মধ্যে ছয়টি দোকানেই তেল ছিল না। যখন বিভিন্ন দোকানে তেল আছে কি না, সে খবর নেওয়া হচ্ছিল তখন সেখানে তেল কিনতে এসেছিলেন বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. আশরাফুল ইসলাম। তিনি রাতে নিজের অফিসেই থাকেন। চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় তেল না পেয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারে এসেছিলেন। একটি দোকানে পাঁচ লিটারের বোতল পেলেও তা কেনার সামর্থ্য (৯৮৫ টাকা) ছিল না তাঁর। এক থেকে দুই লিটারের বোতলের খোঁজ করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোনো দোকানে এক বা দুই লিটারের বোতল না পেয়ে ৩৪৫ টাকা দিয়ে সূর্যমুখী তেলের এক লিটারের বোতল কিনতে বাধ্য হন।

আশরাফুল তেলের বোতল নিয়ে অফিসে ফিরে যাওয়ার পৌনে এক ঘণ্টা পর আবার মহাখালী কাঁচাবাজার ফেরত আসেন। দোকানিকে অনুরোধ করেন, তিনি যে অফিসে রাতে থাকেন, সেখানে তাঁর সঙ্গে আরও দুজন সহকর্মী থাকেন। তাঁরা বকাঝকা করে বলেছেন, এত টাকা দিয়ে তেল খাওয়ার দরকার নেই। পরে ওই তেল ফেরত দিয়ে ১৭৫ টাকায় আধা লিটার শর্ষের তেলের বোতল নিয়ে যান তিনি।

মহাখালী কাঁচাবাজারের একজন দোকানি বলেন, মজুত করে রাখা ৫ লিটার তেলের বোতলের গায়ে লেখা থাকবে ৭৬০ টাকা। কিন্তু নতুন দামে পরিবেশকের কাছ থেকে কিনতে হবে ৯৪০ টাকায়। আর বিক্রি করতে হবে ৯৮৫ টাকা। লাভ থাকবে ৪৫ টাকা। মাত্র এই কয়েক টাকার জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হয়। আবার ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় আছে। বাড়তি কিছু লাভের জন্য দেখা যাবে হাজার হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। তাই আপাতত তেল বেচা বন্ধ রেখেছেন তিনি। নতুন দামের তেলের সরবরাহ বাজারে বাড়ার পর বিক্রি করা যাবে। অবশ্য এই বাজারেরই কয়েকজন দোকানি মজুত করা তেল বাড়তি দামে বিক্রি করছে।

দোকানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের (তীর ব্র্যান্ডের তেল) মহাখালী এলাকার পরিবেশক মো. লিটন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের পর আমি রোববার এক গাড়ি বোতলের তেল (দুই লিটারের) পেয়েছি। আগের তেল আমরা আগের দামেই দিয়েছি। তবে সঙ্গে চা–পাতা দিয়েছিলাম।’

কারওয়ান বাজারে সংকট কেটেছে

কারওয়ান বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেটেছে। গতকাল এই বাজারের দোকানগুলোতে নতুন দামের তীর, ফ্রেশ ও পুষ্টি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল দেখা গেছে। তিনটি ব্র্যান্ডেরই এক, দুই ও পাঁচ লিটারের তেল ছিল।

বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের দোকানি মো. আরমান বলেন, পরিবেশকেরা চাহিদামতো তেল দিতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া পরিবেশকদের বিক্রয় প্রতিনিধিরাও এসে জিজ্ঞেস করছেন, তেল লাগবে কি না।

চট্টগ্রামে ভোজ্যতেল কোথাও আছে কোথাও নেই

চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়ি ও চকবাজার এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের গতকাল থেকে পুরোদমে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ শুরু করেছেন বিভিন্ন কোম্পানির পরিবেশকেরা। তবে শহরের অন্য বাজারগুলোতে এখনো তেলের সরবরাহ সেভাবে শুরু হয়নি।

চকবাজার ও কাজীর দেউড়ি বাজারের কিছু দোকানি সিটি গ্রুপের তেল পেয়েছেন। সিটি গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের ভোজ্যতেলের পরিবেশক সেলিম এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মঈন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সিটি গ্রুপ থেকে ৩ হাজার ৬০০ লিটার তেল পাঠানো হয়েছে। বড় দুই বাজারে তা দেওয়া হয়েছে। তেল আরও আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই পরিবেশক চট্টগ্রাম শহরের ২ নম্বর গেট, কাজীর দেউড়ি, চকবাজার এলাকায় তেল সরবরাহ করেন।

টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম প্রথম আলোকে বলেন, বড় বাজারগুলোতে তেল পৌঁছেছে। অলিগলির দোকানেও শিগগিরই পৌঁছে যাবে।

বহদ্দারহাট বাজারের দোকানিরা এখনো চাহিদামতো ভোজ্যতেল পাননি। তাঁরা চকবাজার থেকে তেল সংগ্রহ করেছেন। বহদ্দারহাটের খুচরা বিক্রেতা আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবেশকেরা তেল দেয়নি। বাধ্য হয়ে চকবাজারের পরিবেশকের কাছ থেকে নিয়েছি।’

চট্টগ্রাম শহরের ২ নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তাঁদের বাজারে গতকালও কোনো পরিবেশকের ভোজ্যতেলবাহী গাড়ি ঢোকেনি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন