বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকার সপ্তম জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরী আজ এই তারিখ ঠিক করেন। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ভোলানাথ দত্ত। এপিপি ভোলানাথ বলেন, এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হলেন মডেল তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহাবুব করিম ও তাঁর চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম। তাঁরা দুজন আদালতে আজ হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে চান। আদালত এই দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৫ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন।

default-image

মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর বুড়িগঙ্গায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নিচে তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর সাবেক সাংসদ গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য বলছে, অভির প্ররোচনায় বিজ্ঞাপনের মডেল তিন্নি তাঁর স্বামীকে তালাক দেন। কিন্তু এরপর অভি তিন্নিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তিন্নি এসব তথ্য মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। ক্ষিপ্ত হয়ে অভি ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যার পর রাতের যেকোনো সময় তিন্নিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য গাড়িতে করে কেরানীগঞ্জ থানার ১ নম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর কাছে ফেলে রাখেন। অভি কানাডায় পলাতক।

২০১০ সালের ১৪ জুলাই আসামি অভির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় আইন অনুযায়ী অভির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।

মডেল তিন্নি হত্যা মামলার একমাত্র আসামি গোলাম ফারুক অভি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলার ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।

তবে অভির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী শাহ ইলিয়াস রতন এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ২০০৬ সালের ৩ নভেম্বর অভির পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাই তিনি পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন কানাডার অটোয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে। কিন্তু বহুবার লিখিত তাগিদ দেওয়ার পরও তাঁর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বিচারের সম্মুখীন হতে চান। কিন্তু তাঁর পাসপোর্ট দিচ্ছে না বাংলাদেশ হাইকমিশন। অভির পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য ২০১০ সালে তাঁর পক্ষে রিট করা হয়েছিল।

মামলার নথিতে দেখা যায়, পলাতক আসামি অভি কানাডা থেকে তাঁর আইনজীবী বরাবর এক চিঠি লেখেন। এর কপি দেওয়া হয় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান সরকারি কৌঁসুলিকেও। তাতে অভি দাবি করেছিলেন, ১৯৯৬ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি আইনের শাসনে বিশ্বাসী।

ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তিন্নি হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে দেশ ছেড়ে তিনি কানাডায় যান।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন