বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকালে মাস্ক পরে, পকেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে মাদ্রাসায় যায় শফিকুল। প্রবেশপথে দেখেছে ছাত্রদের দীর্ঘ সারি। সবার মুখেই মাস্ক। নিরাপত্তা প্রহরী একে একে সব ছাত্রের শরীরের তাপমাত্রা মাপছেন। এরপর শফিকুল চলে যায় ক্লাসে।

শফিকুল প্রথম আলোকে বলল, ‘দেড় বছর ধরে ঘরে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম। অনলাইনে ক্লাস করেছি, কিন্তু ভালো লাগত না। কারণ, মাদ্রাসায় আসতে পারতাম না। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হতো না। সব সময় মনে হতো কবে মাদ্রাসা খুলবে, কবে আবার ক্লাসে যাব। তবে দেড় বছর পর আমার আক্ষেপ শেষ হয়েছে। আজ আমি আবার মাদ্রাসায় আসতে পেরেছি। খুব ভালো লাগছে।’

মাদ্রাসায় সশরীর ক্লাসে আসতে পারার এই আনন্দ কেবল একা শফিকুলের নয়, এই আনন্দে মেতে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। দেড় বছর পর আবার ক্লাসে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও অনেক খুশি।

তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু ইউসুফ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভার্চ্যুয়াল ছাত্রদের দেখলেও সরাসরি দেখায় মনের যে প্রশান্তি মেলে, তা তো ছিল না। আল্লাহর অশেষ রহমতে আবার প্রতিষ্ঠান খুলেছে, আবার ক্লাস শুরু হয়েছে।

default-image

মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নিচ্ছি।’ অধ্যক্ষ জানান, যাত্রাবাড়ীর ক্যাম্পাসে ইবতেদায়ি থেকে কামিল শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০।

এই মাদ্রাসায় সব শিক্ষার্থীর মুখে মাস্ক থাকলেও দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের বসানো হয়নি।

default-image

মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ খলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটু বেশি হওয়ায় প্রথম দিনে ন্যূনতম শারীরিক দূরত্ব পুরোপুরি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তবে সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। শতভাগ ন্যূনতম শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

দেড় বছর পর পঞ্চম শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থী জাফওয়ান আল জাবিরের সঙ্গে তার বন্ধু আমিনুল ইসলামের দেখা। দুজন মুখে মাস্ক পরে কোলাকুলি করেছে।

default-image

জাফওয়ান প্রথম আলোকে বলল, ‘ঘরবন্দী জীবন মোটেও ভালো লাগছিল না। আজ আবার মাদ্রাসা খুলেছে। আমি মাদ্রাসায় এসেছি এবং আমার বন্ধু আমিনুলের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমার অনেক ভালো লাগছে।’

মাদ্রাসার শিক্ষক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব খারাপ সময় গেছে। তবে আবার প্রতিষ্ঠান খুলেছে। আবার সরাসরি ছাত্রদের পড়াতে পারছি। এটি আমার জন্য কম আনন্দের বিষয় নয়।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন