বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এসব যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষতা অর্জনে জাইকা দক্ষিণ সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুইজন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করবে বলে জানানো হয়।
ল্যান্ডফিল ও পার্শ্ববর্তী জমিতে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ নিরূপণ, গ্রিনহাউস গ্যাসের স্থানিক তথ্যকোষ সংরক্ষণ করা হবে। গ্যাস অ্যানালাইজার কিটের মাধ্যমে মিথেন (CH4), কার্বন ডাই–অক্সাইড(CO2), হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), কার্বন মনো–অক্সাইড (CO) ইত্যাদি গ্যাস প্রবাহের পরিমাপ নির্ণয় করা হবে।

সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মধ্যে Phantom4 Pro মডেলের ড্রোনটি অপারেশন পয়েন্ট থেকে ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি এই ড্রোনের সাহায্যে ল্যান্ডফিলের মেয়াদ নির্ধারণ, ল্যান্ডফিলের উচ্চতা নির্ধারণের মাধ্যমে সেটেলমেন্টের হিসাব রাখা, ল্যান্ডফিল থেকে সৃষ্ট দূষিত পানি প্রবাহের হটস্পট চিহ্নিত করা, দখলকৃত খালগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করা, ল্যান্ডফিল ও আশপাশের বায়ুদূষণের (গ্রিনহাউস গ্যাসসহ) উৎস চিহ্নিত করা এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেলার অনুমোদনহীন স্থান চিহ্নিত করা যাবে।

লিচেট পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দূষিত পানির বিভিন্ন প্যারামিটারের মাত্রা, যেমন pH, DO (Dissolved Oxygen) এবং EC (Electric Conductivity) নিরূপণ করা যাবে।

জাইকার তিনজন কর্মকর্তা গ্যাস অ্যানালাইজার, ড্রোন ও লিচেট পরিমাপক যন্ত্র পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ডিএসসিসির দুজন কর্মকর্তাকে তিন মাস কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। প্রতিদিনের সেসব বর্জ্য সংগ্রহ করে মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেসব বর্জ্যের একাংশ হতে নানা ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়।

এসব যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন সেখানে কী পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে, তা মনিটরিং করতে পারব। এতে করে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব। শুধু তা–ই নয়, পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তও আমরা বিশ্লেষণ করতে পারব। এর ফলে আরও কার্যকর ও যথোপযুক্তভাবে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারব।’

একটি বিদেশি গণমাধ্যম ‘মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে আশঙ্কাজনক হারে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন’ হওয়ার অপপ্রচার চালিয়েছে উল্লেখ করে ফরিদ আহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমরা দেখলাম, সেই গণমাধ্যমের তথ্য সঠিক নয়। তারা প্রতিবেদনে মিথেন গ্যাস উৎপত্তিস্থল হিসেবে যে স্থানকে চিহ্নিত করেছে, বস্তুত সেই স্থান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় নয়। যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো বিদেশি গণমাধ্যমে এমন আজগুবি ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করার সুযোগ পাবে না।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর সিতওয়াত নাঈম, ‘প্রজেক্ট ফর স্ট্রেনদেনিং অব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইন ডিএসসিসি’ প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান মাসাহিরো সাইতো, জাইকার প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি মাতসুমোতো ডাইকি এবং দক্ষিণ সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন