default-image

উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া খিদির খালের দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে খালের জায়গায় থাকা একটি ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়।

মূলত কিউলেক্স মশা নিধনে ডিএনসিসির চলমান বিশেষ মশকনিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তখন খালের জায়গায় দখল দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, স্লুইসগেট এলাকায় খিদির খালের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নিজেদের কবজায় নিয়েছিল সাফা টাওয়ার (হোটেল ও বাণিজ্য কেন্দ্র) কর্তৃপক্ষ। তাদের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাফা টাওয়ার কর্তৃপক্ষ নিজেদের দাপ্তরিক কাজের জন্য খালের জায়গায় টিন শেডের একটি আধা পাকা ঘর তৈরি করেছ। এ ছাড়া লোহার গ্রিল ও স্টিলের শিটের তৈরি সীমানা বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছিল পুরো এলাকা। মেয়রের নির্দেশে এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তার এ এস এম মামুন জানান, দখলে থাকা খালের ওই অংশ ভরাট হয়ে গেছে। পানির প্রবাহও নেই। সিটি করপোরেশন খালের ভরাট হওয়া অংশটি পুনরায় খনন করে দেবে। এতে খিদির খালের পানিপ্রবাহ তুরাগ নদে মিশবে।

গতকাল সকালে মূলত কিউলেক্স মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের পরিচালিত বিশেষ মশকনিধন অভিযানে কর্মীদের ওষুধ ছিটানো পরিদর্শন করছিলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসান ও স্থানীয় ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরিফুর রহমান। দলবল নিয়ে মেয়র স্লুইসগেট এলাকায় গিয়ে খালের এমন দশা দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধভাবে দখলের বিষয়টি বুঝতে পেরে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
রাজউক ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখলে অনুমতি দিত না।
আতিকুল ইসলাম, মেয়র, ডিএনসিসি

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চরম সত্য কথা হলো খালটি দখল করে রাখা হয়েছিল। এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দখলের বিষয়টি জেনেও কাউন্সিলররা কিছু বলছেন না কেন? এর উত্তরে মেয়র বলেন, এমন সাহস ও সিদ্ধান্ত নেওয়া কাউন্সিলরের পক্ষে সম্ভব নয়, এটি বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, রাজউক ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখলে অনুমতি দিত না।

ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসান খাল দখলের বিষয়টি জানতেন না জানিয়ে বলেন, এখন থেকে নজরদারি রাখা হবে, যাতে কেউ অবৈধভাবে দখল করতে না পারে। খালের দখল হয়ে যাওয়া অংশের কাছেই ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুর রহমানের কার্যালয়। কাছে থাকলেও দখলের বিষয়টি কীভাবে তাঁর নজরে আসেনি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্প্রতি খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন নিয়েছে। আগে সমন্বয়হীনতার অভাব ছিল।

নির্মাণাধীন সাফা টাওয়ার হোটেল অ্যান্ড বিজনেস সেন্টারের প্রকল্প পরিদর্শক সোহরাব হোসেনের দাবি, কার্যালয়টি অবৈধ নয় কিংবা খালের জায়গা দখল করেও নির্মাণ করা হয়নি। কার্যালয়টি নিজেদের জায়গায় তৈরি। রাজউক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের নিয়ে, জায়গা মেপেই কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন