বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনও আদালতে এসেছে। তাই নতুন করে পরীমনির জামিন আবেদন করা হবে।

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে

পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকের মামলায় আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিআইডি লিখেছে, গ্রেপ্তারের অনেক আগে পরীমনির মদপানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তা ছাড়া পরীমনির যে গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল, সেটি তিনি ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিনেছেন।

৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ এবং এলএসডি ও আইস নামের মাদক পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমনির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৩০ জুন ওই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে এ মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমনি তাঁর গাড়িটি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন।

পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাতটি বোতলে রাখা তরল পদার্থের মধ্যে অ্যালকোহল রয়েছে। এসব মদে অ্যালকোহলের মাত্রা যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, ১২ দশমিক ৩, ১২ দশমিক ৬, ১১ দশমিক ৭ , ১২ দশমিক ১, ১৫ দশমিক ২ ও ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া কাগজের প্যাকেটে রাখা দানাদার পদার্থে মেথামফিটামিন রয়েছে। আর ব্লাটার পেপারে এলএসডি পাওয়া গেছে।

পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন—এমন অভিযোগ এনে গত জুনে সাভার থানায় মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ওই মামলায়ও আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির (যৌন নিপীড়ন) শিকার হয়েছিলেন পরীমনি। তাঁকে মারধর ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম এবং তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলাটি এখন ঢাকার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন