প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাশাদ হোসাইন বাংলাদেশের বিদ্যমান ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি সম্পর্কে ঐক্য পরিষদ নেতাদের কাছে জানতে চান। ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী তৎপরতা বাংলাদেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিস্থিতি তাদের শঙ্কাগ্রস্ত করে তুলছে।

রাশাদ হোসাইন বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার ভারতের বিহার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি এবং নাগরিকত্ব পেয়েছি। সেখানকার সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকে সে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করে বিধায় আমি আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীত হয়ে এ জায়গায় আসতে পেরেছি। সংবিধানের একটি মৌল উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের অধিকার সুনিশ্চিত করা।’

রাশাদ হোসাইন বলেন, সমাজের মনোজাগতিক বিষয়ের পরিবর্তন কেবল সরকারের একার নয়, সুশীল সমাজকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সারা বিশ্বে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবহিত রয়েছে এবং পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

রাশাদ হোসাইন চীনে মুসলমানদের নিপীড়ন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন। এই অবস্থার অবসানে বিশ্বে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার বিকাশে মার্কিন প্রচেষ্টা চলমান থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যান্যের মধ্যে ঊষাতন তালুকদার, নিমচন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও, দীপেন চ্যাটার্জী, অশোক বড়ুয়া, মণীন্দ্র কুমার নাথ ও নির্মল চ্যাটার্জী মতবিনিময়ে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে ঐক্য পরিষদ কার্যালয়ে রাশাদ হোসাইন নামাজ আদায় করেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন