default-image

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রাস্তায় ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে হেঁটে যাচ্ছিলেন মো. শামিম। মুখে মাস্ক নেই। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘আসলে অনেক গরম তো। পকেটে আছে। পরব।’

শামিমের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রনিও মাস্ক পরেননি। ফার্মগেটে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ বাসায় ভুলে রেখে এসেছি। অন্য সময় পরি।’ দোকানে কেনাকাটা করতে এসেছেন, এমন কয়েকজন নারীও মাস্ক না পরার একই কারণ জানালেন। বললেন, ‘মাস্ক বাসায় রেখে এসেছেন।’ তাঁদের সঙ্গে থাকা শিশুদের মুখেও মাস্ক নেই।

এ তো গেল পথচারীদের কথা। বাসের চালক ও চালকের সহকারী থেকে শুরু করে বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। চালক ও চালকের সহকারীদের অনেকে আবার মাস্ক পরেছেন নাকের নিচে।  কারও আবার মাস্ক ঝুলছে থুতনিতে।

কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়লেও মাস্ক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যায়। গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় করোনায় সংক্রমিত ১ হাজার ৭১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা) দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। আড়াই মাসের মধ্যে এটি ছিল এক দিনে সর্বোচ্চ। হাসপাতালগুলোতেও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৩ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো চিঠিতে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ বাড়লেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতাও হতাশাব্যঞ্জক।
দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পর অনেকের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালাভাব দেখা যাচ্ছে।

মাস্ক কিন্তু আবশ্যিক। মাস্ক পরা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে কেউ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছে না। সভা, সমিতি, মিছিল–মিটিং, রাজনৈতিক সভা, বিয়ে—সব চলছে।
এ বি এম আবদুল্লাহ, চিকিৎসক

এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, এখন যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, সে হারে চলতে থাকলে দ্বিতীয় ঢেউ চলে আসবে। মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, মাস্ক কিন্তু আবশ্যিক। মাস্ক পরা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে কেউ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছে না। সভা, সমিতি, মিছিল–মিটিং, রাজনৈতিক সভা, বিয়ে—সব চলছে। বিনোদনকেন্দ্রগুলো কক্সবাজার, কুয়াকাটা লোকারণ্য। এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে সংক্রমণ আরও বাড়বে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করায় সরকার লকডাউন দেবে কি না, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই মুহূর্তে লকডাউন দিলে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। লোকজন লকডাউন আর মানবে না। লকডাউন দেওয়া বাস্তবসম্মত হবে না।’

গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মাস্ক পরার ব্যাপারে কড়াকড়ি করতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবেন বলে জানান। চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, মাস্ক পরার নির্দেশনা যেন কাগজে-কলমে থেকে না যায়, সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন