default-image

মাস্ক না পরার অপরাধে রাজধানীর লালবাগের নবাবগঞ্জ রোড এলাকায় ১৭ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনেকে আবার আদালত চলে যাওয়ার পর মাস্ক খুলে ফেলেন। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল এই অর্থদণ্ড আদায় করেন।

অভিযানের সময় ১৭টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৩ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানের পাশাপাশি অসচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে মাস্ক পরাবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো।

মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অভিযানে এসে বেশির ভাগ সময় মানুষকে মাস্ক পরা অবস্থায় পেয়েছি। অভিযানের কারণে বা সচেতনতার কারণে মানুষ মাস্ক পরছে—এটা হতে পারে। জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলছে। মাস্ক পরার হার বেড়েছে।

লালবাগের নবাবগঞ্জ রোড এলাকার জে এন সাহা সড়ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, নবাবগঞ্জ বাজার মসজিদ মার্কেট, নবাবগঞ্জ বাজার, তেলিপাড়া মসজিদ, হোসেনউদ্দিন খান লেন, নবাবগঞ্জ সাত শহীদ কমিউনিটি সেন্টার মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলে। এ সময় সেখানে পথচারী, দোকানদার, ব্যবসায়ীদের মাস্ক না পরার অপরাধে অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় অসচ্ছলদের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নবাবগঞ্জ পার্কে তিন তরুণের মধ্যে দুজন মুখে মাস্ক ছাড়া বসেছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেখে তাঁরা প্রত্যেকেই তাড়াহুড়া করে মাস্ক পরে নেন। আদালত এ সময় দুজনকে জরিমানা করেন। তাঁদের একজন কাউসার আদালতের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ২ জনকে ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হয়।

তোতা মিয়া গোশত বিতানের মালিক তোতা মিয়া একমনে মাংস কাটছিলেন। একটু আগেই তাঁর দোকানের সামনে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যান। তখন তাঁর মুখে মাস্ক ছিল। আদালত ফেরার পথে দেখতে পান, তোতা মিয়ার মুখে কোনো মাস্ক নেই। আদালত এ সময় বলেন, ‘ভেবেছেন আমরা চলে গেছি, তাই মাস্ক খুলেছেন?’ তোতা মিয়া বলেন, ‘কাজ করছিলাম বলে খুলে রেখেছি।’ আদালত বলেন, ‘আপনার নিজের ও সবার সুরক্ষার জন্য মুখে মাস্ক পরে থাকতে হবে।’ ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় তোতা মিয়াকে মাস্ক না পরার অপরাধে ২০০ টাকা জরিমানা করেন।


অর্থদণ্ড দিয়েও মাস্ক ব্যবহার হচ্ছে না

দুপুর ১২টার দিকে লালবাগের জে এন সাহা সড়কের মাথায় লন্ড্রির দোকানি প্রদীপ বাবুর মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এ সময় সেখানে হাজির হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক না পরার কারণে তাঁকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আদালতকে বলেন, কাজ করছিলেন বলে মাস্ক খুলে রেখেছিলেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যান। বেলা দেড়টার দিকে ওই লন্ড্রির দোকানে গিয়ে দেখা যায়, প্রদীপ মুখে কোনো মাস্ক ছাড়াই কাপড় ইস্তিরি করছেন।

মন্তব্য করুন