default-image

লকডাউনে পুরান ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু, শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা সংকট। রাজধানীতে অবস্থানরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। মাস্ক বিক্রির টাকায় সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে একবেলার খাবার বিতরণ করছেন শিক্ষার্থীরা।

১৪ এপ্রিল লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই শ্রমজীবী ক্যানটিন নামের খাবার বিতরণ প্রকল্পটি চালু করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। সংগঠনটির খাবার বিতরণ কর্মসূচি চলবে লকডাউন চলা পর্যন্ত।

সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা জানান, এই ক্যানটিন পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে মাস্ক বিক্রি কার্যক্রম থেকে। এতে একদিকে মানুষদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি–সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রতিদিনের মাস্ক বিক্রির টাকায় কেনা হয় বাজার। সংকটে থাকা একটি পরিবারে এ বাজার দিয়ে রান্না করা হয়। এতে পরিবারটিরও খাবারসংকট কাটে। পরে সংগঠনের কর্মীরাই প্যাকেট করে বিকেলের মধ্যে তুলে দেয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে। এ খাবার দিয়ে অনেকে ইফতার ও সাহ্‌রি করে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

নেতা–কর্মীরা বলেন, ১০ দিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস–সংলগ্ন পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, সদরঘাট এলাকায় একবেলার খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০-৭০ জনের খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি কে এম মুত্তাকী বলেন, ‘সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ঘরে বসে মাস্ক তৈরি করছে। পরে তা অনলাইনে প্রতীকী মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগঠনের বর্তমান, সাবেকসহ অনেক শুভানুধ্যায়ী আমাদের আর্থিক সহযোগিতাও করছেন। এভাবেই আমাদের শ্রমজীবী ক্যানটিন চলছে।’

কে এম মুত্তাকী আরও বলেন, ‘আমাদের এই কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি সহযোগিতা নয়, বরং এটি তাঁদের প্রতি সংহতি। অপরিকল্পিত লকডাউন এবং প্রশাসনিক নিপীড়নে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষ আজ অসহায়। সব মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সরকার সেটির ব্যবস্থা না করতে পারলেও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ নেই। রিকশা উল্টানোসহ সব ধরনের শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন