default-image

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র–আগ্নেয়াস্ত্রগুলো বিক্রি–হস্তান্তর থেকে বিরত রাখতে নিষেধাজ্ঞার আদেশ চেয়ে রিট হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আজ রোববার রিটটি করা হয়।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান।

‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ শিরোনামে গত ৫ অক্টোবর প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র–আগ্নেয়াস্ত্রগুলো জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জে আই খান পান্না এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আজ রিটটি করা হয়।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে, এমন আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকার বেচে দিতে চায়। সরকারের যুক্তি হচ্ছে, এগুলো পুরোনো, অপ্রচলিত এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অকার্যকর। ফলে রাখার কোনো দরকার নেই। প্রাচীন নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন (অ্যান্টিক সুভ্যেনির) হিসেবে অস্ত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও সুইজারল্যান্ডের একটি অস্ত্র আমদানিকারক কোম্পানি।

এদিকে পুরোনোর পাশাপাশি নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিরও উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। প্রথম উদ্যোগটি নেওয়া হয় ১৬ বছর আগে। এ বিষয় নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিটের প্রার্থনার ভাষ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র–আগ্নেয়াস্ত্রগুলো বিক্রি–হস্তান্তরের কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র–আগ্নেয়াস্ত্রগুলো জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই সব অস্ত্র–আগ্নেয়াস্ত্র জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বা মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র–আগ্নেয়াস্ত্রগুলো জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয় রিটে। প্রতিরক্ষাসচিব, অর্থসচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাণিজ্যসচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রপ্তানি করতে চাওয়া পুরোনো অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে তৈরি ০.৩০৩ রাইফেল নম্বর-৪ এমকে-১; ৯ এমএম স্টেন এসএমজি এমকে-২ ও সিএম ৯ এমএম স্টেন এ১; ভারতে তৈরি ৭.৬২ এমএম এসটিআর এল১ এ১/১ এ ১ ও রাইফেল জি-৩; পাকিস্তানে তৈরি ৪৪ এমএম হ্যান্ড লঞ্চার এম-৫৭; যুক্তরাষ্ট্র/রাশিয়া/জাপানে তৈরি পিস্তল ও রিভলবার ৭০০ এবং জার্মানি/যুক্তরাজ্য/ভারতে তৈরি এলএমজি এইচকে ১১ এ১ সিএএল ৭.৬২*৫১।

মন্তব্য পড়ুন 0