default-image

কাশিমপুর কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজ শুক্রবার বিকেলে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের আহ্বানে এ জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

গায়েবানা জানাজার আগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশিষ্টজনেরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার আহ্বান জানান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলায় লেখক মুশতাক আহমেদ গ্রেপ্তারের পর ১০ মাস ধরে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি কারাগারেই মারা যান।

প্রতিবাদ সভায় লেখক মুশতাক আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, মুশতাককে হত্যা করা হয়েছে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা সবাই মুশতাকের হত্যার জন্য দায়ী। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী একটি আইন। কোনোভাবেই এমন আইন থাকতে পারে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ নজরুল বলেন, স্বপ্ন দেখা মানুষ মুশতাকের স্বপ্নকে শুধু নয়, সেই মানুষকেই হত্যা করা হয়েছে।

মুশতাকের মৃত্যুর জন্য কি শুধু আইন দায়ী? এই আইন যারা প্রণয়ন করেছে, সেই সরকার এবং যারা প্রয়োগ করছে, সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এর জন্য দায়ী।

বিজ্ঞাপন
default-image

রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি অন্যায্য আইন। এমন আইন বাতিল করা উচিত।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চ নাগরিকদের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে আমরা বিক্ষোভ নিয়ে যাব। এই বিক্ষোভ হবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক বলেন, ‘কাল শনিবার বেলা ১১টায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমরা অবস্থান কর্মসূচি করব। সবাইকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সভায় অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জেল খাটা রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, যুব অধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আবদুর রহমান বক্তব্য দেন।

সভা শেষে লেখক মুশতাকের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন