default-image

মেলা চলছে, মানুষও আছে। কিন্তু স্টলগুলো বলতে গেলে ফাঁকা। মেলার স্টল তৈরি, কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং বই প্রকাশের যে খরচ, তা এবার উঠবে না বলে আশঙ্কা করছেন বিক্রেতা, প্রকাশকেরা। এ ছাড়া বারবার সময় পরিবর্তন, করোনা পরিস্থিতির অবনতি এবং ভিন্ন সময়ে মেলা হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানান তাঁরা।

গতকাল ছিল বইমেলার শেষ শুক্রবার। ঢিলেঢালা লকডাউনেও মেলায় মানুষের আনাগোনা ছিল অনেক। বেলা সাড়ে তিনটার পর ভিড় বাড়তে থাকে। তবে এই ভিড়ের ধাক্কা লাগেনি বইয়ের স্টলগুলোয়। যথারীতি ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি।

করোনা সংক্রমণের কারণে অনেক লেখকই এবারের মেলায় কম উপস্থিত হয়েছেন। লেখকের অটোগ্রাফ বা ছবি তোলার হিড়িক তেমন চোখে পড়েনি। তবে গতকাল দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। কথাপ্রকাশের স্টলে ছিলেন মাসরুর আরেফিন। তিনি বসে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন। সামনে পাঠকের অপেক্ষার লাইন।

বইমেলার শুরু থেকে এ পর্যন্ত সময় পরিবর্তন হয় তিনবার। বারবার সময় পরিবর্তনের কারণে পাঠকও কিছুটা বিভ্রান্ত বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

বিজ্ঞাপন

স্টুডেন্ট ওয়েজের স্টল ইনচার্জ মো. মিলন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলা হচ্ছে অসময়ে, তার মধ্যে বারবার সময় পরিবর্তন হয়েছে। বই যারা কিনবে, তারাও তো কনফিউজড। আর রোদটা যখন পড়ে আসবে, তখনই মেলা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।’

মো. মিলন জানান, মেলার ২০ দিন পার হয়ে গেলেও তাঁদের বিক্রি লাখের কোটা পেরোয়নি। তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতিটাই এমন। এতে কারও হাত নেই।

বেশ কিছু বই কিনে ফিরছিলেন মামুন হোসেন। তিনিও সময় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন বলে জানালেন। মামুন বলেন, ‘আমার অফিস শেষ হয় ছয়টায়। মেলার শেষ দিকে মূলত বই কিনতে বের হই। কিন্তু এবার সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। একদিন এসে ফিরে যাই। তাই ছুটির দিনে এলাম।’

স্টলের ব্যয়, কর্মীদের বেতন কীভাবে উঠবে, তা এবার ভাবনায় ফেলেছে বলে জানালেন পার্ল পাবলিকেশনসের বিক্রয় প্রতিনিধি শেখ রাজা। তিনি বলেন, যেভাবে এবার মেলা চলছে, তাতে খরচটাও উঠবে না। পার্লের প্রকাশক হাসান জাইদী বলেন, কোনো প্রকাশক যদি বই প্রকাশের পেছনে ১০ লাখ টাকাও বিনিয়োগ করেন, তাতে তাঁর তিন লাখ টাকাও উঠবে কি না সন্দেহ।

গতকাল মেলার ২৩তম দিনে নতুন বই এসেছে ৮৮টি। এগুলোর মধ্যে কবিতার বই বেশি।

প্রথমার বই: গতকাল প্রথমা থেকে এসেছে সাজ্জাদ শরিফের সম্পাদনায় মুক্তিযুদ্ধের ১০টি তারিখ। মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর উপলক্ষে প্রথমা প্রকাশন প্রকাশ করছে ‘মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী গ্রন্থমালা’। তারই চতুর্থ বই মুক্তিযুদ্ধের ১০টি তারিখ

অন্য বই: কথাপ্রকাশ থেকে এসেছে বেগম আকতার কামালের রবীন্দ্রনাথের এশিয়া দর্শন। এ ছাড়া আগামী প্রকাশনী থেকে আহসানউল্লাহ চৌধুরীর চট্টগ্রামের শ্রমিক আন্দোলন: নানা রং ও পথ, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে শামসুজ্জামান খানের বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ এবং বেহুলা বাংলা থেকে প্রকাশিত হয়েছে সুহিতা সুলতানার কোয়ারেন্টাইন

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন