মেলায় ছিল মানুষের মেলা

বিজ্ঞাপন
default-image

শনিবার বইমেলায় ছিল ভিড়। অগুনতি মানুষ এসেছিল মেলায়। বিপ্লবীদের কথা স্টলের শেখ রফিক বললেন, ‘এবার মেলার বড় বৈশিষ্ট্য হলো—মানুষ আসছে অনেক, কিনছে কম।’

সে দোকান থেকে বই কিনছিলেন ঊর্মি লোহানী। তিনি বললেন, ‘এখন ফেসবুকে থাকে মানুষ। বই পড়ার সময় কোথায়?’

শেখ রফিক তাতে সায় দিলেন না। বললেন, ‘সেটা পরের ব্যাপার। তিনটা জায়গা থেকে কি বই পড়ার প্রণোদনা আসছে—রাষ্ট্র, সমাজবাস্তবতা আর পরিবার?’

আলোচনাটা দীর্ঘ। পক্ষে–বিপক্ষে দুদিকেই হয়তো যুক্তি আছে। কিন্তু শিশুরা চোখকে বই পড়ার জন্য নাকি টেলিভিশন, ফেসবুক দেখার জন্য বেশি ব্যবহার করছে, তা নিয়ে হয়তো কথা চলতেই পারে। তবে সেটা বাদ দিয়ে আপাতত মাঠের মাঝামাঝি সারিবদ্ধ স্কুল–কলেজের ছাত্র–ছাত্রীদের দেখে কৌতূহল হলো। সুদীপ চক্রবর্তী নামে একজন লেখক তাঁর বই বিনা মূল্যে অটোগ্রাফসহ দিচ্ছেন আমিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ আর কুর্মিটোলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের। অন্যধারা স্টলে সাদাত হোসেনের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য ক্রেতার সারি দেখা গেল। এই প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে তাঁর অর্ধবৃত্ত নামের উপন্যাস। সাইফুল ইসলামও একটি বই হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সারিতে। ‘অনেক লেখক আছে, আপনি সাদাতের বইটাই কেন কিনছেন?’

‘বন্ধুরা পরামর্শ দিল।’

‘আপনি আগে পড়েননি সাদাতের বই?’

‘না। এবার পড়ে দেখব।’

সাইফুল পড়ছেন কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজে, শেষ বর্ষে।

সারির অধিকাংশ মানুষই বয়সে তরুণ।

প্রথমা প্রকাশনের প্যাভিলিয়নে দেখা গেল মাসরুর আরেফিনকে। তাঁর নতুন উপন্যাস আলথুসার এসেছে এই প্রকাশন থেকে। মাসরুর আরেফিন জানালেন, বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে দুদিন বাদে প্রতিদিনই এসেছেন। ক্রেতারা যখন বইটি কিনছেন, তখন ভালো একটা অনুভূতি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি। নানা বয়সের মানুষ তাঁর বই কিনছেন।

মেলায় এসেছে দুই প্রয়াত সাংবাদিকের বই। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের কলাম সংকলন মঞ্চে–নেপথ্যে এবং তাঁকে নিয়ে সমসাময়িকদের স্মৃতিচারণা সিরাজুদ্দীন হোসেন ও সমকালীন সাংবাদিকতা নামে দুটি বই এনেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। জ্যোৎস্না পাবলিশার্স এনেছে প্রখ্যাত সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্তের বই। সন্তোষ গুপ্ত রচনাসংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে সাত খণ্ডে। আলাদাভাবে প্রতিটি খণ্ডও কেনা যাবে বলে জানালেন বইটির অন্যতম সম্পাদক প্রিয়তোষ গুপ্ত।

মেলায় এসেছে সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকার কবিতার বই ফ্রকের ঘেরে শৈশব, এটা প্রকাশ করেছে বেহুলাবাংলা প্রকাশনী। গতকাল মেলা চত্বরে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সাবেক সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। পুঁথিনিলয় এনেছে অমিত রঞ্জন দের সংস্কৃতির পথেপ্রান্তরে, মম প্রকাশন এনেছে দীপক চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধের গল্প শ্রাবণসন্ধ্যা, কবিতাভবন এনেছে অলকা নন্দিতার কবিতার বই দরজায় খিল নেই, সময় প্রকাশন থেকে এসেছে শাহানা হুদা রঞ্জনার বই আমাদের সরাইখানা, পার্বণ প্রকাশ এনেছে সারফুদ্দিন আহমেদের সেজানের নাটক থেকে গল্প, রচয়িতা এনেছে আরিফুর রহমানের মাহিনের এক জীবন। মুক্তিযুদ্ধের আত্মস্মৃতি: আমার স্মৃতি ভাস্বর নামে মো. আক্তার হোসেন মোল্লার বই এনেছে কবি প্রকাশনী।সংবেদ এনেছে মাহফুজ সরকার ও শাহারিয়ার জিমের নৃবিজ্ঞান পাঠপরিচয়, মারুফ ইসলামের ছোটগল্প সংকলন জীবন এখানে এমন এনেছে নহলী প্রকাশনী। প্রথমা প্রকাশন মেলায় এনেছে কবিতার বই মোহাম্মদ রফিকের পিরিতে বসাবো বসত, নির্মলেন্দু গুণের চুমুর নূপুর, মহাদেব সাহার ত যে সুখের নৃত্য, এত যে দুঃখের অশ্রু ও টোকন ঠাকুরের বুদ্‌বুদ পর্যায়ের কবিতা

 একটি অন্য রকম ঘটনা ঘটছে মেলায়। বিকাশ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। যাঁদের বাড়িতে পড়ে আছে বই, কাজে লাগছে না, তাঁরা এখানে তাঁদের বইগুলো রেখে যেতে পারেন। অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিলে বিকাশ এই বইগুলো পৌঁছে দেবে তাদের হাতে, যাদের বই কিনে পড়ার সামর্থ্য নেই। প্রতিদিনই বিকাশের তৈরি করা কয়েকটি জায়গায় বই জমা হচ্ছে। এখানে বই দিতে এসেছিল অনন্যা নামে এক শিশু। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তুমি তোমার বই যে দিয়ে দিলে?’

অনন্যা বলল, ‘আমার বই আরেকজন পড়বে, তাই অনেক ভালো লাগছে।’

মেলায় গতকাল এসেছে ২৪২টি নতুন বই। এবারের মেলায় প্রথমা প্রকাশন এনেছে সাগুফতা শারমীন তানিয়ার দ্বিতীয় ভ্রান্তিপাশ। পুথিনিলয় এনেছে ডা. প্রণব কুমার চৌধুরীর জীবনভর নীরোগ শিশু: সর্পদংশন ও প্রতিকার। পার্ল পাবলিকেশন্স এনেছে মোস্তফা কামালের মানবজীবন। বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে পিয়াস মজিদের কবিতার কায়া ও কুসুম

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন