default-image

রাইড শেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল সেবা চালু বা বিকল্প কর্মসংস্থান করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চালকেরা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই দাবি জানান রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে যুক্ত মোটরসাইকেলচালকেরা।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন করা হয়। ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভারস ইউনিয়ন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। কর্মসূচিতে কয়েক শ মোটরসাইকেলচালক অংশ নেন। তাঁরা রাইড শেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল সেবা পুনর্বহালের দাবি জানান।

মানববন্ধনে মোটরসাইকেলচালকেরা বলেন, রাজধানীতে প্রায় দুই লাখ মোটরসাইকেলচালক আছেন। রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের সংসার চলে। এই সেবার ওপর নির্ভর করে অন্তত ৩০ লাখ মানুষের খাবার আসে। সরকার এসবের কোনো কিছু না ভেবে সরাসরি সেবাটি বন্ধ করে দিয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থানেরও কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, ‘সরকার আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিক অথবা আমাদের বাইক চালানোর সুযোগ দেওয়া হোক, আমরা নিজেরাই আমাদের খাবার খুঁজে নেব। আর যদি সেবা বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান, যেন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’

বিজ্ঞাপন
default-image

মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধের অজুহাতে সরকার রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার ফল কী হচ্ছে? সাধারণ মানুষ গণপরিবহনে গাদাগাদি করে চলাচল করছে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেলচালকদের পরিবার নিয়ে অসহায়ভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া লকডাউনে এই পরিবারগুলোকে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত বুধবার রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত দুই সপ্তাহ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন কয়েক শ চালক। তাঁদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে রাইড শেয়ারিং চালু করা হোক।

এর আগে বাসে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। আসন সীমিত থাকায় বাসে উঠতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রাজধানীবাসীকে।

দেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে মৃত্যু বেড়েছে ৭১ শতাংশ। গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল করোনায় ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে ৪৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৪৭১ জন। দেশে সংক্রমণ শুরুর পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড এটি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সারা দেশ লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল থেকে আপাতত সাত দিনের জন্য লকডাউন (অবরুদ্ধ অবস্থা) শুরু হবে।

লকডাউনে শুধু জরুরি সেবা দেয় এমন প্রতিষ্ঠান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান এবং পণ্যবাহী যানবাহন ও শিল্পকারখানা খোলা থাকবে। বন্ধ থাকবে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী ট্রেন ও যাত্রীবাহী নৌযান। অভ্যন্তরীণ পথে বিমান চলাচলও বন্ধ থাকবে। আর যেসব অফিস চালু রাখার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের সীমিত জনবল নিয়ে চালাতে হবে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লকডাউনে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের তথ্য জানায় সরকার। এরপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২৩ মার্চ প্রথমবার সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হলেও পরে ছুটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে ওই বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন