বেলা তিনটা পর্যন্ত ঢাকা থেকে সরাসরি বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী কীর্তনখোলা-১০, কুয়াকাটা-২, সুন্দরবন-১০, অ্যাডভেঞ্চারের-১, মানামি, কীর্তনখোলা-২, পারাবত-১২, সুন্দরবন-১১, সুরভি-৭, প্রিন্স আওলাদ-১০, সুরভি-৮ লঞ্চঘাটে ভেড়ানো ছিল। এ সময় এসব লঞ্চের ডেক যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল। যদিও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, রাত ৮টার আগে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যাবে না।

মালিকদের তরফ থেকে বরিশালের লঞ্চগুলোর সব কেবিন অগ্রিম বুকড হয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও অনেক লঞ্চের কর্মচারীকে লঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে কেবিনের জন্য যাত্রী ডাকতে দেখা গেছে।

ভাসানচরগামী এমভি সম্রাট-৭ লঞ্চের কেবিনের যাত্রীদের সন্ধ্যা ৬টায় ঘাটে আসতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চটির ব্যবস্থাপক। তবে বেলা তিনটার দিকেই এই লঞ্চের নিচতলার ডেক ও দোতলা যাত্রীতে পরিপূর্ণ দেখা গেছে। ঘাটে থাকা পটুয়াখালীগামী কুয়াকাটা-১ লঞ্চের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, যাত্রী ভরলে ঘাট ত্যাগ করবে লঞ্চ। একই গন্তব্যের এমভি জামাল, এমভি কাজল লঞ্চও ঘাটে ভেড়ানো ছিল।

ঝালকাঠিগামী এমভি ফারহান-৭ লঞ্চে যাত্রী পরিপূর্ণ থাকলেও কখন ছেড়ে যাবে, তা বলতে পারেননি এর কর্মীরা।

পিরোজপুরের হুলারহাট-ভান্ডারিয়াগামী এমভি ঈগল-৮, এমভি যুবরাজ-৭, এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চের সামনের যাত্রী সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের। গোমা-পাতাবুনিয়াগামী এমভি ইয়াদ-৭, তুষখালীগামী রেডসান-৫, মুলাদিগামী এমভি মিতালি-৪ ও এমভি মহারাজ-৭, আমতলীগামী এমভি তরঙ্গ-৭, পয়সারহাটের প্রিন্স আওলাদ-৪, ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়াগামী ফারহান-৫ ও তাসরিফ-৩ লঞ্চঘাটে থাকলেও পর্যাপ্ত যাত্রী হলে এগুলো ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএর বন্দর কর্মকর্তা।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদী বন্দর কর্মকর্তা আলমগীর কবীর প্রথম আলোকে বলেন, আগের দিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি হলেও অন্যান্য ঈদযাত্রার তুলনায় যাত্রী বেশি নেই। সন্ধ্যার দিকে ভিড় বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে বিকেল পাঁচটা থেকে অভিযান পরিচালনা করছেন বিআইডব্লিউটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম করায় সদরঘাট অতিক্রম করা একটি বাল্কহেড, ২টি পণ্যবাহী ও একটি তেলের ট্যাংকারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সদরঘাটে যাত্রীদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে মোতায়েন রয়েছেন নৌপুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের। জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বন্দর ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত জরুরি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা।

সদরঘাটে যাত্রীর ভিড় থাকলেও গুলিস্তান থেকে সদরঘাটের সড়কে অস্বাভাবিক যানজট নেই। দূরের গন্তব্য থেকে আসা যাত্রীরা মূলত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে নেমে হেঁটেই সদরঘাট পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন