default-image

করোনাভাইরাস ঠেকাতে গণপরিবহনে যাত্রী অর্ধেক করার পর চার দিনের মাথায়ও ভোগান্তি কমেনি। এমনকি এ নিয়ে সমালোচনা-ক্ষোভের পরও কোনো সুরাহা আসেনি। অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারছে না গণপরিবহনগুলো।

আজ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনও ঢাকার রাস্তায় অফিসের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় মানুষকে রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

একদিকে সব ধরনের অফিস খোলা, অন্যদিকে যানবাহনের আসন অর্ধেক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশ লোকবল দিয়ে পরিচালনা করার নির্দেশনা থাকলেও কার্যত সেটি কেউ মানছেন না।

গণপরিবহন উঠতে নারীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।

সকাল ১০টায় মোহাম্মদপুরে স্বাধীন পরিবহনে কারওয়ান বাজার আসার জন্য অপেক্ষা করছেন আহমেদ আলী। কড়া রোদে অন্তত ১০০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আহমেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে জানি না। বাসে অল্প লোক নিচ্ছে। আর বাসও স্ট্যান্ডে আসছে অনেকক্ষণ পরপর। আমার সিরিয়াল যে কখন আসবে! অফিসে যে কখন পৌঁছাতে পারব!’

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মাসুম হোসেন নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, ‘ভাব দেখে মনে হচ্ছে, অন্য কোথাও করোনা নেই, গাড়িতেই শুধু করোনা।’

default-image

সেখানে অবস্থানকারী স্বাধীন পরিবহনের একজন কর্মী বললেন, ‘যাত্রীর চাপ কুলাতে পারছি না। একটা গাড়ি স্ট্যান্ডে আসার সঙ্গেই সঙ্গেই ছেড়ে দিতে হচ্ছে যাত্রীদের অফিসের কথা চিন্তা করে। ড্রাইভাররা এসে একটু রেস্ট নেওয়া, খাওয়ার সময়ও পায় না।’ ওই কর্মী বলেন, অন্য সময় দাঁড়িয়েও অনেক লোক যায়। কিন্তু সিটের অর্ধেক লোক যাচ্ছে।

ওই কর্মী আরও বলেন, এতগুলো লোক। একটা গাড়িতে ২০ থেকে ২৫ জনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাচ্ছে না।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ও বাসস্ট্যান্ডে এমন অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এখানকার বাসগুলোর একটি বড় অংশ বছিলা থেকে ছেড়ে আসে। মূলত, মোহাম্মদপুর আসার আগে বাসগুলোয় আর জায়গা থাকছে না। এ কারণে বাসের দরজা রয়েছে বন্ধ।

অনেককে একটার পর একটা বাসের বন্ধ দরজায় গিয়ে কড়া নাড়তে দেখা গেছে। কিন্তু ব্যর্থ হতে দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাসে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। এ ক্ষেত্রে খুচরা টাকা না থাকার কথা বলে ভাড়া বেশি রাখার অভিযোগ করছেন তাঁরা।

এমন পরিস্থিতিতে অ্যাপসভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ করেছে সরকার। কাজেই যাঁরা মোটরসাইকেলে যাতায়াতে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও অনেক মোটরসাইকেলকে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা অ্যাপস ছাড়াই চলছেন। এ ক্ষেত্রে যাত্রীরা বেশি ভাড়ার অভিযোগ করছেন।

default-image

ইফতেখার নামের একজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘আমাদের দিনও কঠিন হয়ে গেছে। পেটের চিন্তায় রাস্তায় নামতে হচ্ছে অ্যাপস ছাড়াই। রাস্তায় এখন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলেই সার্জেন্টের ভয়। ধরলেই জরিমানা দিতে হয় দুই হাজার টাকা। মানে সারা দিন আয় করেও সেই টাকা তোলা সম্ভব না।’

ভোগান্তির এই সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধেও। যদিও তাঁদের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই সরকার থেকে।

এ বিষয়ে শাহবাগে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাচালক হারুনুর রশিদ বললেন, ‘সিএনজিতে কোনো রেট নেই। যে যেমন ভাড়ায় যায়। আমরা তো কাউকে (যাওয়ার জন্য) জোর করছি না।’

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন