default-image

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছিলাম বেলা তিনটায়। নাখালপাড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি, এরই মধ্যে করতে হয়েছে ইফতার। পরপর দুদিন এমন ঘটনা ঘটছে।’ এ কথা বলেন কর্মজীবী নারী মাধবী। বুধবার আবারও এই পথে রওনা হয়েছেন তিনি।

বাংলামোটর যানজটে আটকে পড়া বাসে কথা হলো মাধবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ আধা ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়েছিলাম বাসের অপেক্ষায়। এরপর যে বাসটি পেয়েছি, সেটিও প্রায় এক ঘণ্টা লাগিয়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর এসেছে। বাড়ি পৌঁছাব কতক্ষণে তা জানা নেই। কারণ ভীষণ যানজট। বাস নড়ছে না। সামনের রাস্তাও যানবাহনে পরিপূর্ণ দেখা যাচ্ছে।’

একই বাসে মাধবীর মুখোমুখি সিটে বসা ফাহিমা। তাঁর অফিস নারায়ণগঞ্জে, থাকেন বাংলামোটর এলাকায়। প্রতিদিন গণপরিবহনে যাতায়াত করেন তিনি। ফাহিমা জানালেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আসা যায় নির্বিঘ্নেই। কিন্তু বিপত্তি ঘটে গুলিস্তান থেকে বাংলামোটর আসতে। যতটা সময় এতটুকু রাস্তায় নষ্ট হয়, ততক্ষণে হেঁটে বাড়ি চলে আসা যায়। তবে জ্যামের শহরে, ফুটপাথ দখলে এই কাজটা করতেও কষ্টকর।

গত ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগ ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। বৈঠকে রমজানে যানজট সমস্যা কমাতে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৫ এপ্রিল ঢাকা মহানগর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বাসমালিক, চালক সমিতি, বিভিন্ন মার্কেট কর্তৃপক্ষ, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা ও ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ সমন্বয় সভা হয়। এরপরও নগরবাসী প্রতিনিয়ত আটকে থাকছে যানজটে।

টঙ্গী থেকে মতিঝিল রুটে চলাচল করা বিআরটিসি বাসের এক চালক বলেন, ‘আগে আমরা যেখানে তিনটি ট্রিপ দিতাম, এখন দুটি ট্রিপ দেওয়াই কঠিন। সাধারণ সময় টঙ্গী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত আসতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগত। এখন চার-সাড়ে চার ঘণ্টার আগে এক ট্রিপ পূরণ করাই যায় না।’

এই বাসচালকের মতো যানজটের ভুক্তভোগী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক কালাম। তিনি বলেন, ‘এক-একটি ট্রিপ দিতেই সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। বাংলামোটর, শাহবাগ, মিরপুরের মতো এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।’ কালামের অটোরিকশায় বসা শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যাত্রী বলেন, ‘এই পথে আমাকে যেতেই হয়। কখনো বাসায় ইফতার ধরতে পারি, কখনো পারি না।’

রাজধানীর দিলকুশা, পল্টন, বেইলি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির পাইপ বসানো ও ম্যানহোল বসানোর কাজ চলছে। এ ছাড়া আগারওগাঁও, খামারবাড়ী, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এর ফলে যানজটে নগরবাসী আরও নাকাল হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এ ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ফুটপাথে ইফতারি বিক্রি ও ঈদের বাজার বসাও যানজটের অন্যতম কারণ। যানজটের কারণে কর্মস্থল থেকে ফেরা বিভিন্ন পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত পথেই ইফতার সারতে হচ্ছে।

যানজটের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জানতে হবে, ঢাকা শহরের একটি নির্দিষ্টসংখ্যক যানের ধারণক্ষমতা আছে। কিন্তু রমজান মাসে ইফতার ধরার তাড়নায় সব মানুষ একই সময় বাড়ির পথে রওনা হন। তাই স্বাভাবিকের চেয়ে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি হয়।’

এ বছর রোজা জুন মাসে পড়ায় ভোগান্তি আরও বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাফিকের এ যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বলেন, সাধারণত অর্থবছর শেষের দিকে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকল্প শেষের তাগিদ থাকে। ফলে এই সময় রাস্তা কাটাকাটি বেশি হয়। তার ওপর মেট্রোরেল এবং অন্যান্য কারণে এমনিতেই পথ সরু হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন