default-image

সাত বছরের সামিহা জামানের আঁকা ছবিতে বঙ্গবন্ধু, দেশের মানুষ, পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আর দেশের পতাকা। আফিজা রহমান মানুষ, প্রজাপতি, পোকামাকড়, গাছ, পাখির ছবি এঁকে ফুটিয়ে তুলেছে স্বাধীনতা। ছোট্ট সামিহা আর আফিজার মতো আরও অনেক শিশু রংতুলিতে এঁকেছে স্বাধীনতার ছবি।

ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের উদ্যোগে আজ শুক্রবার রাজধানীর কেএফসি ও পিৎজা হাটে ‘রংতুলিতে স্বাধীনতা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

অনলাইনে আগে থেকে নিবন্ধন করে এই প্রতিযোগিতায় ৫ থেকে ৮ বছর বয়সী ৭১টি শিশু অংশ নেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মূল্যবোধ জাগ্রত করতে চিত্রাঙ্কনের বিষয় ধার্য করা হয়েছে ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর’। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর কেএফসি ও পিৎজা হাটের ৬টি আউটলেটে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী, ওয়াকিলুর রহমান, আব্দুল মান্নান, হিরন্ময় চন্দ, জাহিদ মুস্তাফা ও অশোক কর্মকার।
গুলশানের কেএফসি ও পিৎজা হাটে দেখা যায়, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আহনাফ আবদুল্লাহ এঁকেছে পতাকা, ঘর, সূর্য, ঘুড়ি। তার কাছে এটিই স্বাধীনতা। মো. আহনাফ হোসেন এঁকেছে দেশের পতাকা।

বিজ্ঞাপন

ছোট্ট রাহমি বিনতে রিয়াজ সবার আগে আঁকা শেষ করেছে। কেএফসির শিশুদের খেলার নির্ধারিত স্থানে গিয়ে সে খেলতে শুরু করে। বিজয়ীও হয়।

default-image

গুলশান কেএফসি ও পিৎজা হাটে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী, ওয়াকিলুর রহমান। আবুল বারক আলভী বলেন, এই শিশুদের মনে যে ভাবনা এসেছে, ওরা রংতুলিতে সেটাই ফুটিয়ে তুলেছে। কারও আঁকা দেখে মনে হচ্ছে বেশ কয়েকবার তাঁরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। আবার কেউ কেউ একদম কাঁচা হাতে স্বাধীনতাকে নিজের মতো করে এঁকেছে।

চিত্রশিল্পী ওয়াকিলুর রহমান বলেন, সবাই ভালো এঁকেছে। পুরস্কার সবাইকে দিতে পারলে ভালো লাগত। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি আজ। এই উৎসব ঘিরে শিশুরা যা ভেবেছে, সেটাই ফুটিয়ে তুলেছে।

আয়োজন সম্পর্কে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং মুরাদুল মুস্তাকিন বলেন, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। ট্রান্সকম ফুডসও স্বাধীনতার ৫০ বছরে উদ্‌যাপন করছে। নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও জানানোর জন্যই এ আয়োজন।

ফেসবুকে রংতুলিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার কথা জেনে শামসুদ্দিন আহমেদ তাঁর মেয়ের জন্য নিবন্ধন করেন। তিনি বলেন, দেশ সম্পর্কে ওরা যেন আরও ভালোভাবে জানে, সে জন্যই এ ধরনের প্রতিযোগিতায় আসা।

default-image

কেএফসি ও পিৎজা হাটের ৬টি আউটলেটে ১৮ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। গুলশানে দুই বিচারকের সঙ্গে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের সিইও অমিত দেব থাপা।

বিজয়ী যারা

পিৎজা হাট গুলশানে বিজয়ীরা হলো অরিজিৎ ভক্ত উজি (প্রথম), আরাফাত মাহশিদ (দ্বিতীয়) ও মুমতাহিনাহ তাহা (তৃতীয়)। কেএফসি গুলশানে বিজয়ীরা হলো আফিজা রহমান (প্রথম), জাকিয়া ওয়াছিমাত মৃহাত (দ্বিতীয়), রাহমি বিনতে রিয়াজ (তৃতীয়) ও বিশেষ বিবেচনায় আনাফ আবদুল্লাহ।

বেইলি রোড পিৎজা হাটের বিজয়ীরা মো. সাইফুল্লাহ সিয়াম (প্রথম), তাহিরা মুশফিরাত (দ্বিতীয়) ও ফারহানা আলম (তৃতীয়)। বেইলি রোড কেএফসির বিজয়ীরা সামারা সারাফ (প্রথম), নাজিবা আনোয়ার (দ্বিতীয়) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (তৃতীয়)।

ধানমন্ডি পিৎজা হাটের বিজয়ীরা রিশতি শিল ধৃতি (প্রথম), মো. তাহসিন (দ্বিতীয়) ও তাসনীম (তৃতীয়)। ধানমন্ডি কেএফসির বিজয়ীরা রুহান আবদুল্লাহ (প্রথম), ইরফান আহমেদ (দ্বিতীয়), সাদাইন শাহরিয়ার (তৃতীয়) ও বিশেষ বিবেচনায় আফরিন রহমান।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন