বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শিশুপার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। তখন থেকেই তা বন্ধ আছে। ফলে, এবারও ঈদের দিন শিশুরা অভিভাবকদের হাত ধরে আর পার্কটিতে যেতে পারছে না।

‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’ বা অন্য কোনো গানের সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে দুলতে বা ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দ বা নাগরদোলায় চড়তে পারছে না শিশুরা।

রাজধানীর শ্যামলীতে ছোট পরিসরে ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড (শিশু মেলা) থাকলেও শিশুদের তাতে মন ভরে না। এখানে রাইডের সংখ্যাও অনেক কম।

করোনার জন্য গত দুই বছরের মতো এবারও ঈদের দিন জাতীয় জাদুঘর এবং জাদুঘরের আওতাধীন শাখা জাদুঘরগুলো বন্ধ থাকবে। জাদুঘর খুলবে ঈদের ছুটির পর আগামী শনিবার। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরও ঈদের ছুটিতে বন্ধ থাকবে।

খোলা থাকবে জাতীয় চিড়িয়াখানা

ঈদের দিন মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য সকাল নয়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকবে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের জন্য খাবার পানি সরবরাহে যাতে ঘাটতি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। চিড়িয়াখানাকে জীবাণুমুক্ত করা, প্রাণীগুলোর সুস্থতার বিষয়ে তদারক করা হচ্ছে। করোনার যেহেতু প্রকোপ কম, তাই এবার ঈদের দিন একটু কম হলেও ঈদের পরে দিনগুলোয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঈদে শুধু ছোটরাই ঘুরতে যাবে, তা তো নয়, বড়দেরও তো মন চায় নিজেদের মতো করে ঘুরতে। নাম প্রকাশে কিছুটা লজ্জা পাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব এক নারী চিকিৎসক। তিনি জানান, দেশে থাকা এক চিকিৎসক বন্ধু এবং আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ঈদ করতে আসা আরেকজন চিকিৎসক বন্ধু, অর্থাৎ তিনজন মিলে ঈদের দিন ঘুরবেন। গাড়ির চালক ঈদের ছুটিতে থাকায় তাঁরা একটি গাড়ি ভাড়া করেছেন।

ঈদের দিন কোথায় ঘুরবেন, তা জানতে চাইলে ওই চিকিৎসক জানান, আপাতত পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন ক্রিসেন্ট লেকের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে ঘুরতে যাবেন। লেকের পাশের কৃষ্ণচূড়াগাছগুলো ফুলে লাল হয়ে গেছে। এ ছাড়া ঢাকা শহরে আসলে যাওয়ার তেমন তো জায়গাও নেই বলেও উল্লেখ করলেন তিনি।

ঈদের দিন অনেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতির ঝিল ও জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ঘুরতে যান। সংসদ ভবনের সামনে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ার আয়োজনসহ বিভিন্ন আয়োজন থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়েও সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

গ্রিন রোডের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কাকলী খান জানান, ঈদের দিন রিকশা করে তিনি তাঁর কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাবেন, ছাত্রজীবনে নিজের প্রিয় জায়গাগুলোয় বসে মেয়ের সঙ্গে গল্প করেই কাটিয়ে দেবেন ঈদের অনেকটুকু সময়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন