default-image

মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তিকে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে মিরপুর ২ নম্বরের জোনাকি রোডে ‘হিরো’ নামের অবৈধ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র চালানো হচ্ছিল। বুধবার এই অভিযোগে ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে বন্ধ করে দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।


শুধু হিরোই নয়, রাজধানীতে এমন আরও তিনটি অবৈধ মাদকাসক্তি নিরাময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো মোহাম্মদপুরের কাটাসুরের ‘নিউ দ্বীনের আলো’, শনির আখড়ার ‘আনন্দ’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাতুয়াইলের ‘জীবন পরিবর্তন’।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোর উপপরিচালক মানজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই উল্লিখিত চার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র চলছিল। এসব নিরাময় কেন্দ্রে নেই কোনো মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, নেই উপযুক্ত পরিবেশ। একই শয্যায় দুজন করে রোগী রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১০ / ১২ জন করে মাদকাসক্তি রোগী ছিল, তা সরিয়ে দিয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সকল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান চালানোর সময় মিরপুরের হিরোয় চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া একজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন তিনি মাদকাসক্ত হিসেবে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকেই চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য তাঁর দাবি, তিনি মেডিকেল কলেজে পড়েছেন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে অভিযানে বাধা দেয়। মোহাম্মদপুরের নিউ দ্বীনের আলোরও লাইসেন্স নেই। এ ছাড়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘খ ’শ্রেণির মাদক রাখলেও দয়াগঞ্জের আনন্দ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেয়নি। ২৮ বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই চলছিল এই কেন্দ্রটি।
এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। লাইসেন্স ছাড়াই শনির আখড়ার পশ্চিম পাড়ায় জীবন পরিবর্তন নামের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র চালানোর অভিযোগে সেটি বন্ধ করে দেয় অধিদপ্তরের আরেকটি দল।
এর আগের দুদিনে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন না থকায় মিরপুরের হলি মাইন্ড, উত্তরার দর্পণ ও লাইফ কেয়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0