বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পার্বত্য মেলা রাজধানীর বুকে বসছে প্রায় এক দশই ধরেই। মাঝে দুই বছর করোনার কারণে মেলা হয়নি। কিন্তু এ কমপ্লেক্সে মেলার আসর এবারই প্রথম। আগে মেলা হতো বেইলি রোডের এ জায়গায়, যখন কমপ্লেক্সের মাঠটি ফাঁকা ছিল। আবার শিল্পকলা একেডেমিতেও বসেছে কয়েকবার।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তিতে থেমেছে দুই দশকের লড়াই। পাহাড়ের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এসেছে নানা পরিবর্তন। জুমের সঙ্গে অধুনা যুক্ত হয়েছে হর্টিকালচার বা ফলের বাগান। দেশি আম থেকে শুরু করে বিদেশি ড্রাগন ফল বা রাম্বুটান—বাদ নেই কিছুই। বয়নশিল্পের খ্যাতি তো পুরোনো। এই যে বিপুল পণ্যসামগ্রী তৈরি হচ্ছে পাহাড়ে, তার প্রচার ও প্রসার আর সেই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা—পার্বত্য মেলা আয়োজনের লক্ষ্য এটাই। এ মেলার আয়োজক পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় এমনটাই বলে।

পাহাড়ে ফল চাষের প্রসারে খ্যাতি আছে। পার্বত্য মেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের স্টলটি ঠাসা নানা ফলে। কী নেই সেখানে, লাল–সাদা–কালো তিন রঙের জুমের বিন্নি চাল, কলা, অপ্রচলিত কাজু, মাল্টা, কমলা অন্তত ৩০ ধরনের ফল–ফসল। বোর্ডের মিশ্র ফল প্রকল্পের বাগানে ফলে এসব, জানালেন প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। তবে নাগরিক ঢাকাবাসীর জন্য তথ্য, এসব ফল বিক্রি হবে না। মেলার এই এক প্রতিষ্ঠান, যাদের পণ্য ‘বিক্রির জন্য নহে’।

কিন্তু নগরবাসীকে নিরাশ করবে না মেলার পাহাড়ি বয়নশিল্পের ২০টির মতো স্টল। এসব বসেছে কমপ্লেক্সের তিনতলায়। তবে এগুলো ওপরে হওয়ায় আগের বছরগুলোর তুলনায় বিক্রিবাট্টা অপেক্ষাকৃত কম হচ্ছে বলেই জানান রাঙামাটি থেকে আসা তুষিতা চাকমা। তাঁর দোকানসহ প্রায় সব স্টলেই চাকমা নারীদের পিনন–হাদি, পুরুষের লুঙ্গি, মাফলার, নারীদের থ্রিপিস, চাদর, গামছা—অভাব নেই কিছু।

পোশাক, ফল–ফসল ছাড়াও খাদ্যরসিকদের জন্যও মেলায় আছে ভালো আয়োজন। বিন্নি চালের গরম গরম পিঠা, কলা পিঠা, বিন্নির লাড্ডু, বাঁশের ভেতরে রান্না মুরগির চুমো হেবাং, মমো কত কিছু। বান্দরবানের দুই বন্ধু ই মং আর পুন্যাহ মারমার স্টলে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী মুংডি, মুরগির ঝাল মাংস আর সঙ্গে জাপানি খাদ্য রামেনের ফিউশন চোখে পড়ে। কেউ গেলে চেখে দেখতেই পারেন।

আর হ্যাঁ এসব কেনাকাটা করে, খেয়েদেয়ে বিনোদনের খোরাক আছে। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে তিন পার্বত্য জেলার শিল্পীরা তুলে ধরবেন তাঁদের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য, নাটক। বিশাল কমপ্লেক্সের দুই প্রান্তে ঢাউস দুই পর্দায় মিলনায়তনের অনুষ্ঠান দেখা যাবে। ঘুরতে–কিনতে–খেতে খেতে সুর মিলবে কানে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন