বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের আশপাশের ৭১টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। এরপরই গ্রেপ্তার অভিযানে নামে পুলিশ।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহার করা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার ছিনতাইকারী।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় কেশব রায় পাপনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কম্পিউটার শাখায় খণ্ডকালীন চাকরিও করতেন। সেদিন নিউ এলিফ্যান্ট রোডের কর্মস্থল থেকে তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়ার বাসায় বাইসাইকেলে করে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার মাহমুদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার দিন কেশবের গতিরোধ করে পাঁচ ছিনতাইকারী। কেশব বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাঁর মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কেশব নুরুজ্জামানকে জাপটে ধরেন। এ সময় নুরুজ্জামান ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা কেশবকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গতকাল ঢামেক হাসপাতালের মর্গে কেশবের মামা কমল রায় লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তিনি।

কেশবের মামা কমল রায় বলেন, কেশবের গ্রামের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বায়ানপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা মংলু রায় পেশায় কৃষক। কেশব তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন