বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে মো. রাজিব ওরফে গোলাম রব্বানি ওরফে শংকর চন্দ্র দেবনাথ ও মো. জাকির হোসেন। তাঁরা এখন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও নবাব আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির না করে দুই–তিন দিন পর আদালতে হাজির করা হয়। ফলে তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির আইনগত ভিত্তি নেই। শিশুটির মাথা কমলাপুর থেকে আর দেহের বাকি অংশ ভাওয়াল শালবন থেকে উদ্ধার হয়। মাথা ও শরীরের বাকি অংশ যে একই ব্যক্তির, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি।’

শিশির মনির আরও বলেন, ‘মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৯ জন পুলিশ সদস্য সাক্ষী ছিলেন। তাঁদের কেউ সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসেননি। এতে করে ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। হাইকোর্ট ১৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

মামলার তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর শাজাহানপুর পদচারী–সেতুর নিচে কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশ থেকে জনতা ব্যাগসহ শংকরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই সময় তাঁর ব্যাগে এক শিশুর কাটা মাথা পাওয়া যায়। পরদিন শংকরকে নিয়ে ভাওয়ালের শালবনে গিয়ে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল শাহজাহানপুর থানায় মামলা হয়। তবে শিশুটির নাম–পরিচয় জানা যায়নি।

এরপর ২০০৯ সালের ১৩ এপ্রিল চাঁদপুর থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ ঢাকার আদালত রায় দেন। রায়ে ওই দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামিরা। এসবের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ রায় দেওয়া হলো।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন