default-image

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের বাসিন্দা শারমিন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্যাস ছিল না তাঁর বাসায়। সন্ধ্যায় চুলায় গ্যাসের চাপ খুব কম ছিল। শারমিন ভেবেছিলেন, আজ বুধবার সকালে গ্যাস সরবরাহ ঠিক হবে। কিন্তু সকালেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় তিনি রান্না করতে পারেননি। ফলে শিশুসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, কল্যাণপুর, মিরপুর ১, গ্রিনরোড, কলাবাগান এলাকায় গতকাল সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আজ বুধবারও অনেক এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বড় একটি অংশে এখনো গ্যাস নেই। যেটুকু গ্যাস আসছে, তা দিয়ে রান্না করা যাচ্ছে না। তিতাস বলছে, আজও সারা দিন গ্যাস নিয়ে ভোগান্তিতে থাকতে হতে পারে। গ্যাসের সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গতকাল সকালে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর লিকেজ বা ছিদ্র শনাক্ত হয় ১২ ইঞ্চি পাইপলাইনে। তাই এটি বন্ধ রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ১৬ ইঞ্চি পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এতে রাজধানীর বড় একটি অংশ এখনো গ্যাস পাচ্ছে না। যেটুকু পাচ্ছে, তা দিয়ে রান্না করা যাচ্ছে না।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, কল্যাণপুর, মিরপুর ১, গ্রিনরোড, কলাবাগান এলাকায় গতকাল সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আজ বুধবারও অনেক এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

তিতাসের দায়িত্বশীল তিন কর্মকর্তা জানান, ছিদ্র মেরামতের কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমিনবাজার থেকে ৫০০ মিটার সামনে সালেহপুর ব্রিজ এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বালু ফেলে পাইলিং করতে গিয়ে তিতাসের পাইপলাইন ছিদ্র করেছে। এখন এক্সকাভেটর দিয়ে বালু সরাতে গেলেই পানি চলে আসছে। তাই কাজ করা যাচ্ছে না। গতকাল একাধিকবার চেষ্টা করেও কাজ করা যায়নি। এভাবে পানির নিচে কাজ করতে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা আছে।

আজ সকাল ১০টার দিকে তিতাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বাসায় গ্যাস না পেলেই মানুষ এখানে ফোন করে অভিযোগ জানায়। দুদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ আসছে।

আমিনবাজারের সমস্যা নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু ওই পাইপলাইনের জন্য সরবরাহে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এখন সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা ডেমরা, যাত্রাবাড়ী পয়েন্ট দিয়ে গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছেন না।
আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ , তিতাস গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীবাসীর গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি আরও বাড়বে। ঢাকার একদিকে পাইপলাইনে লিকেজ, অন্যদিকে সরবরাহ বন্ধ। সব মিলে বিপদে পড়ে গেছে তিতাস। কোনো আশা দেখাতে পারছে না তারা।

তিতাস গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, আমিনবাজারের সমস্যা নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু ওই পাইপলাইনের জন্য সরবরাহে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এখন সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা ডেমরা, যাত্রাবাড়ী পয়েন্ট দিয়ে গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

তিতাসকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল )। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে সামিট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তাই হঠাৎ দিনে ৩৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে। ২৬ মার্চ সামিট আবার সরবরাহ শুরু করতে পারে।

তিতাসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সওজের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। পাইপলাইনের দুই পাশে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে বাঁধ নির্মাণ করে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। সওজ আজ কাজ শুরু করবে। এরপর পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষ করবে তিতাস।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন